‘বই-তীর্থ’ তৈরিতে বরাদ্দ ১০ কোটি গিল্ডের আর্জিতে সাড়া মমতার
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, কলকাতা: ‘বইতীর্থ’ তৈরির জন্য ১০ কোটি টাকা অনুমোদন দেবার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব¨্যােপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কে ৪৯ তম কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন ৪৯ বার ঘণ্টা বাজিয়ে উদ্বোধন করলেন বইমেলার।
৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রাজ্যের উদ্যোগে ‘বই তীর্থ’ গড়ে তোলার এক অভিনব আবেদন রাখলেন পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গিল্ডের আবেদনের ভিত্তিতে বই-তীর্থ তৈরি করা হবে। তার জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গিল্ডের কর্তা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দিদি, আপনি আমাদের নতুন নতুন ভাবনা উপহার দিচ্ছেন-জগন্নাথ ধাম, দিঘা বা মহাকাল তীর্থ। বইয়ের জন্য কি এমন কিছু করা যায়? ‘বই-অঙ্গন’ বা ‘বই-তীর্থ’?’ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি আরও সংযোজন করেন, ‘আপনিই পারবেন।’
গিল্ড কর্তার এই আবেদনের জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি শুধু বলব, শান্তনু এদিকে এসো। ও আমার আইএনসিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং পাওয়ার ডিপার্টমেন্টেরও। একটা বই-তীর্থ ওরা করতে চাইছে, করে দাও। ৫০ বছর আগে…আইডিয়াটা আমি একটা স্কেচ করছিলাম, কিন্তু আমার টাইম হয়নি করার। বই দিয়ে করতে হবে। আমি জাস্ট একটা রাফ স্কেচ করছিলাম। পুরোটা বই দিয়ে হবে, বই-তীর্থ। ১০ কোটি টাকা আইএনসিএ থেকে আপনারা এঁদের দিয়ে দেবেন। এই যে সুধাংশুবাবু আর ত্রিদিবদা। একটা অফিশিয়াল লেটার চাইলেন। কারণ গভর্নমেন্টের তো অডিট করতে হয়। অফিশিয়াল দরখাস্তটা আইএনসিএ-র কাছে পাঠিয়ে দেবেন, শান্তনুর কাছে। আমাকে পাঠানোর দরকার নেই। আমি পয়সা বলে দিলাম, ১০ কোটি টাকা আপনাদের দিয়ে দেবে। আপনারা নিজেদের মতো করে তৈরি করুন। সুতরাং ৫০ বছরে এসে যেন দেখতে পাই যে, আপনারা এটাকে দিয়ে বই প্রাঙ্গণের সঙ্গে একটা বই-তীর্থও করে দিয়েছেন।’
গিল্ডের তরফ থেকে রাখা এই বক্তব্যে উঠে আসে বইমেলা প্রাঙ্গণ নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াই এবং তাতে মুখ্যমন্ত্রীর অবদানের কথা। ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, সাহিত্যসেবী ও বইপ্রেমী মুখ্যমন্ত্রীর অভিভাবকত্বেই বইমেলা আজ তার স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে এবং ৪৯তম সংস্করণে পৌঁছেছে। শীঘ্রই এই মেলা তার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ স্পর্শ করবে।
এবারের মেলায় প্রায় ১০০০ জন প্রকাশক ও বিক্রেতা অংশ নিচ্ছেন এবং ২১টি দেশ তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সেই ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ত্রিদীপ চট্টোপাধ্যায় জানান, আর্জেন্টিনা ও কলকাতার এই মেলবন্ধন বইমেলাকে এক অন্য মাত্রা দেবে। এছাড়াও মেলায় মহাশ্বেতা দেবী, উত্তম কুমার, সলিল চৌধুরী এবং ভূপেন হাজারিকার নামে বিশেষ হল ও তোরণ উৎসর্গ করা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে গিল্ড কর্তা আশা প্রকাশ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ এবং বইপ্রেমী মানুষের ভালোবাসায় এবারের বইমেলা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে। তবে উদ্বোধনী সন্ধ্যার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর সেই বিশেষ আর্জি-রাজ্যে একটি স্থায়ী ‘বই-তীর্থ’ গড়ে তোলার স্বপ্ন। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রী এই আবেদনে কীভাবে সাড়া দেন। আজ এই বইমেলার উদ্বোধন হলেও সাধারণের জন্য তা খুলে যাবে আগামি শুক্রবার থেকে। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

