ভয়াবহ ভাঙন ব্রাহ্মণগ্রামে ভিটে বাড়ি হারানোর আশঙ্কায় ২০০ পরিবার

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো

সামশেরগঞ্জ, লালগোলার পর এবার ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙনের কবলে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার নয়নসুখ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ব্রাহ্মণগ্রাম। গত মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ এলাকায় গঙ্গাভাঙন শুরু হতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ™াথরের বাঁধ-সহ অন্তত ১০০ মিটার জমি গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।
২০-২৫ বছর আগে গঙ্গা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানে কাজ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এরপর রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ফের গঙ্গা ভাঙন শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি বিপজ্জনক। স্থানীয় বাসিন্দা অন্তত ২০০টি পরিবার আতঙ্কিত। দ্রুত বাঁধ নির্মাণের কাজ না হলে যে কোনও মুহূর্তে আরও জমি গঙ্গাগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। স্থানীয় বাসি¨াদের দাবি, ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক ভাঙনরোধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে সামশেরগঞ্জ, লালগোলায় গঙ্গা একের পর এক গ্রাম গিলে নিয়েছে। অনেকেই জমি জায়গা, ভিটে হারিয়েছেন।
নতুন করে ভাঙনের খবর পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থলে যান ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন কংগ্রেস এবং বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবিলম্বে বাঁধ নির্মাণের কাজ না হলে এলাকার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে ব্রাহ্মণগ্রাম। এজন্য oুত বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
এদিন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনের খবর পেয়ে গ্রামে গিয়েছিলাম। নয়নসুখ পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি লালু সেখকে বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে oুত বাঁধ তৈরির কাজে হাত দিতে নির্দেশ দিয়েছি। আসলে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের এ কাজ করার কথা। বিষয়টি ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজারকে জানানো হয়েছে। ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিক।’ এদিকে কংগ্রেসের রাজ্য যুব সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন, ‘এভাবে বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে দায়সারা কাজ করতে দেব না। ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কাজ না শুরু করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আবেদন জানাব।’
স্থানীয় সূত্রের খবর, ফরাক্কার ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি আবদুল বাসির, কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক মহম্মদ আনসার আলি, কংগ্রেস নেতা মাহাতাব সেখ এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ফরাক্কার বিজেপির মন্ডল-২-এর সভাপতি পিন্টু মন্ডল বললেন, ‘আমরা ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানাব। দলমত নির্বিশেষে গ্রামবাসীরা ভয়াবহ ভাঙনের শিকার। এবার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’
এব্যাপারে ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডের প্রতিক্রিয়া, ‘ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ফরাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের আধিকারিককে ভাঙন কবলিত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা ফরাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের অন্তর্গত।’ তাঁর আরও আশ্বাস, ‘দ্রুত কাজ আরম্ভ হবে।’ এই আশ্বাসে স্থানীয় বাসি¨ারা আশার আলো দেখছেন। গঙ্গা ভাঙন রোধে স্থায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দেখতে প্রতীক্ষায় এখন গ্রামবাসীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *