কারখানার বিষাক্ত কালো জলে সর্বনাশ, আমতায় বর্জ্যে নষ্ট চাষ, বাড়ছে দূষণ পথে নেমে কৃষকদের বিক্ষোভ
কল্যাণ অধিকারী
হাইলাইটস
❏ কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত জলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য
❏ বিষাক্ত জলে মরে যাচ্ছে জমির বীজতলা
❏ কয়েকশো কৃষক পথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানাল
❏ শিল্পও বাঁচুক, কৃষকও কৃষি কাজ করুক, জানান পঞ্চায়েত প্রধান
❏ খতিয়ে দেখে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়ই নেব, বললেন বিডিও
বিঘের পর বিঘে চাষের জমি ও বীজতলা এবং জলাশয় বাঁচাতে তিন-চারটি গ্রামের কয়েকশো কৃষক একজোট হয়ে পথে নামলেন। গাছের ডাল ফেলে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আমতা-বাগনান সড়ক আটকে দিল। বিক্ষোভরত ক্ষুদ্ধ কৃষকদের সামাল দিতে আমতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছেও শান্ত করতে পারেনি। ঘন্টার পর ঘন্টা স্তব্ধ জনপথে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াল আমতার উদং-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, আমতা-১ ব্লকের পূর্ব গাজীপুর নতুন মন্দিরের কাছে একটি গেঞ্জি কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত জল বেশ কয়েকবছর ধরে এলাকার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। বিষয়টি স্থানীয় উদং-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং আমতা-১ বিডিও দপ্তরে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে চুপচাপ থেকে যাচ্ছে প্রশাসন। আর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তিন-চারটি গ্রামের কয়েকশো কৃষক। এলাকার জলাশয়ের জলের স্বাভাবিক রং পাল্টে বিষাক্ত কালো হয়ে গিয়েছে। মরে যাচ্ছে মাছ। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়। কৃষি কাজে খালের জল ব্যবহার করলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বীজতলার চারা ধান। ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। এদিন কয়েকশো মহিলা ও পুরুষ একসঙ্গে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
কৃষকদের আন্দোলনে পাশে-ই দাঁড়িয়েছেন উদং-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কবিতা দলুই। তিনি বলেন, “নতুন পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন হয়েছে আড়াই বছর। তার বহু আগে থেকেই পূর্ব গাজীপুর এলাকায় কারখানাটি গড়ে ওঠে। কৃষকদের দাবী আমাদের-কে জানিয়েছে। বিষয়টি আমরা শুনেছি। খালের জলের রঙ কালো হয়ে গেছে। কৃষকদের জমি ও বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। চারা বীজধান নষ্ট হয়ে গেলে জমিতে ধান চাষ করায় সমস্যায় পড়বেন কৃষকরা। আমরা শিল্পের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু কৃষকদের কথাটাও মানতে হবে। কারখানায় ফিল্টার মেশিন রয়েছে বলে শুনেছি। ওঁরা ফিল্টার না করে জল খালে ফেলছে। বিষাক্ত জলে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকরা। আমরা কারখানার কর্তৃপক্ষকে জানাব যাতে করে বর্জ্য মেশা জল বাইরে না আসে। কোনভাবে বিষাক্ত কালো জল খালে না মেশে। শিল্পও বাঁচুক, কৃষকও কৃষি কাজ করুক।”
কৃষকদের সমস্যার কথা শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অফিসার-কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলেন আমতা ১ ব্লকের বিডিও সুজয় ধর। তিনি জানান, “গেঞ্জি কারখানার নোংরা বেরিয়ে ড্রেনে জমছে তারজন্য পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তারজন্য অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি দেখতে অফিসার পাঠিয়েছিলাম। দেখে এসেছে। খতিয়ে দেখে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়ই নেব।”
এতদিন প্রতিবাদ করলেও গাছ ফেলে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ এই প্রথম। অভিযুক্ত কারখানার গেটের সামনেও বাঁশের বেড়া দিয়ে দেয় কৃষকরা। তাঁদের দাবী এমন কৃষি জমি ও গ্রাম্য এলাকায় কীভাবে এমন কারখানার অনুমোদন দিয়েছিল প্রশাসন। এরপরেও প্রশাসন কিছু ব্যবস্থা না গ্রহণ করলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে। কোনভাবে-ই কৃষি জমি ও জমির ফসল এবং জলাশয় নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না এমনটাই ক্ষুদ্ধ কৃষকদের দাবি।

