যোগাযোগে নতুন দিন আনবে|কুলিয়া সেতুকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছে দ্বীপাঞ্চল |

কল্যণ অধিকারী, এডিটর রাজন্যা নিউজ

হচ্ছে হবে দেখছি এসব এখন অতীত। কুলিয়া ঘাটে মুন্ডেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। নদীর মাঝে পিলার পোতার কাজ চলছে। নতুন বছর শেষ হওয়ার আগে সেতু নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হবার প্রবল সম্ভাবনা। নতুন সেতু হলে হাওড়া জেলার সঙ্গে দ্বীপাঞ্চলের যোগাযোগ নিবিড় হবে।

হাওড়া জেলার একমাত্র দ্বীপাঞ্চল বলে পরিচিত ঘোড়াবেড়িয়া-চিৎনান এবং ভাটোরা। দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কুলিয়াঘাটে পাকা সেতু। ৩৪ বছরের বাম সরকারের জমানায় সেতু নির্মাণে আশ্বাস মিলেছিল কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। মা মাটি মানুষের সরকার গঠন হবার পরেও আমতা বিধানসভা ছিল বিরোধীদের দখলে। বিধায়ক ছিলেন কংগ্রেসের অসিত মিত্র। চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এবভাবেই কেটে যায় আরও এক দশক। একুশে আমতার বিধায়ক হবার পরেই লাল ফিতের ফাঁস খুলে সেতু নির্মাণে আন্তরিক হয়ে ওঠেন সুকান্ত পাল। মন্ত্রী পুলক রায় উপস্থিতির মধ্য দিয়ে কুলিয়া সেতু নির্মাণের শিলান্যাস হয় গত এপ্রিলে। সেতু তৈরিতে ২৬ কোটি ও জমি কিনতে ৩ কোটি খরচ। মোট ২৯ কোটি টাকা ব্যায়ে ১৬৫ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার চওড়া সেতুটি নির্মাণ কাজ হচ্ছে।

বিধায়ক সুকান্ত পাল জানান, ” মুন্ডেশ্বরীর ওপর নতুন সেতু গড়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেতুর কাজ দ্রুততার সঙ্গে চলছে। নির্মাণকাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছি। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলেই যোগাযোগ ও আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে বিপুল সুবিধা পাবেন দ্বীপাঞ্চল বাসী।”

রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী ঘেরা দ্বীপাঞ্চল। প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা নৌকা ও বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো। কুলিয়া সেতুর হাত ধরেই দ্বীপাঞ্চলের যোগাযোগ ও আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছে বাসিন্দারাও। কথা হচ্ছিল ভাটোরার বাসিন্দাদের সঙ্গে। কংক্রিটের সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সঙ্গেও যোগাযোগের সময় কমে যাবে। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জিনিসপত্র আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে খরচ কমবে। সরাসরি গাড়ি চলে যাবে গোপিগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত। এমনটা হলে সময় ও ঝামেলা দুই’ই কমবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *