হাওড়ায় তৃণমূল কর্মীকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার মোট ছ’জন
কল্যাণ অধিকারী এবং ব্যুরো রিপোর্ট
শিবপুরের তৃণমূল কর্মী খুনের কিনারা করল হাওড়া সিটি পুলিশ। গত ২৩ শে অক্টোবর রাতে জিটি রোডের ওপর তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক তৃণমূল কর্মী আব্দুল কাদিরকে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, মাদক পাচার সহ কমপক্ষে ১০ টি মামলা ছিল। এই ঘটনার তদন্তে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম তৈরি করা হয়। ঘটনার রাতেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এখনো পর্যন্ত পুলিশ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, একটি স্কুটি এবং বাইক। পুলিশ জানিয়েছে নিজেদের মধ্যে শত্রুতার জেরে এই খুন।
হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে সতর্ক করা হয়। সেই রাতে কলকাতা পুলিশের একটি দল ঘটকপুরে দুষ্কৃতিদের একটি স্কুটিকে তাড়া করলে স্কুটি ফেলে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ খুনের সময় ব্যবহৃত স্কুটি এবং পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। এরপর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে মহম্মদ দানিশ এবং মহম্মদ ফৈয়াজ নামে দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে। তারা এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্থানীয় সোর্স মারফত খবর পায় এই ঘটনার শুটার আফতাব ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশে পালিয়ে যায়। এরপর হাওড়া সিটি পুলিশের একটি তদন্তকারী দলকে সেখানে পাঠানো হয়। তারা গাজীপুর, আজিমগড় এবং বরাবাকি বিভিন্ন ডেরায় হানা দিয়ে আফতাব নামে ওই শুটারকে গ্রেফতার করে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে আজ হাওড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে। গতকাল পুলিশ সূত্রে খবর পেয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের নিমতা থানা এলাকা থেকে ভিকি এবং তৌফিক হোসেন ওরফে গেড়া নামে ২ কুখ্যাত দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে দুটি সেভেন এমএম পিস্তল, একটি বাইক এবং নগদ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ওই বাইক খুনের সময় ব্যবহার হয়েছিল কিনা। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন দুটি দুষ্কৃতি দলের শত্রুতার জন্য এই খুন। ২০১৪ সাল থেকে তাদের মধ্যে শত্রুতা ছিল।

