হুমকিবার্তা পুরীর মন্দিরের দেওয়ালে, বাড়ল নিরাপত্তা

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সন্ত্রাসবাদী হামলার হুমকি। মন্দিরের পরিক্রমা পথে বুধি মা মন্দিরের দেওয়ালে হুমকিমূলক বার্তা লেখা মিলেছে। তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও উল্লেখ করা রয়েছে এবং তাঁকেও হুমকি বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ফোন নম্বরও দেওয়া আছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বুধবার পুরীতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দক্ষিণ পাশের পরিক্রমার পথ বুধি মা মন্দিরের দুটি দেওয়ালে হুমকিমূলক বার্তা লেখা আছে। একদিকে লেখা আছে, জঙ্গিরা মন্দিরটি ধ্বংস করবে। অন্যদিকে, হুমকিমূলক বার্তায় কিছু ফোন নম্বর দিয়ে তাতে কল করতে বলা হয়েছে। নাহলে বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে।
সূত্রের খবর, ঘটনার তথ্য পাওয়ার পর পুরীর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার এবং এই ধরনের কাজের পিছনে তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা শুরু করা হয়েছে। তবে কে এবং কেন এই কাজ করেছে তা এখনও জানা যায়নি।

এই বিষয়ে পুরীর এসপি পিনাক মিশ্র বলেন, ‘আজ সকালে আমরা খবর পেয়েছি যে বুধি মা মন্দিরের দেওয়ালে কিছু লেখা আছে। মন্দিরের ভেতরে কিছু আপত্তিকর কথা লেখা হয়েছে। মন্দিরের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। এই লেখাটি কখন লেখা হয়েছিল, কে লিখেছে, দেওয়ালে কার ফোন নম্বর লেখা আছে আমাদের বিশেষ দল সেটা তদন্ত করে দেখছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ দল কিছু সূত্র পেয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

পুরীর মন্দিরের অনেক জায়গায় সিসিটিভি লাগানো আছে। মন্দিরের পরিক্রমা পথে এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, বুধি মা’র মন্দিরে এই লেখা কে এবং কখন লিখেছে, সেখানে নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীরা কী করছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, পুলিশ অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে যারা এমন কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সমীর সামন্ত্রয় বলেন, ‘অবশ্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি রয়েছে। নইলে এরকম জঙ্গি হামলার হুমকি দেওয়ালে লেখা হয় কী করে। পুলিশ সঠিকভাবে টহল না দেওয়ার কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উচিত এটি সঠিকভাবে তদন্ত করা এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *