ঋণের টাকা শোধ করতে কিডনি বিক্রিতে চাপ গৃহবধূকে

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ ও ব্যুরো রিপোর্ট

গ্রুপ লোন নিয়ে ব্যবসা করে আর্থিকভাবে এগোতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় কিডনি বিক্রির চাপ গৃহবধূকে! আতঙ্কে ঘরছাড়া গৃহবধূ ও তাঁর পরিবার। অভিযোগকারী গৃহবধূ হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বাসিন্দা। দেনার চাপ থেকে রেহাই পেতে ওই গৃহবধূকে কিডনি বিক্রির মতো ভয়ঙ্কর পথে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় মানুষজন।

জগৎবল্লভপুরের খাদারঘাট, রণমহল বেরাপাড়ার আতঙ্কিত পরিবার পাওনাদারদের থেকে বাঁচতে পুলিশের দ্বারস্থ। গৃহবধূ লিপিকা সাঁতরা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, হাটে কাপড়ের ব্যবসায় লোকসান থেকে শুরু হয়েছিল সবকিছু। সেই লোকসান মেটাতে চড়া সুদে টাকা ধার করেছিলেন গৃহবধূ। দেনা শোধ করতে গিয়েই একের পর এক ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।অভিযোগ, দেনা মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি পাওনাদাররা তাঁকে কিডনি বিক্রি করে টাকা মেটানোর জন্য চাপ দিতে শুরু করে। কিডনি বিক্রি করে দিলে যেটাকা পাবে তাতে সব দেনা মিটে যাবে।

অভিযোগে গৃহবধূ আরও বলেন, হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিডনি বিক্রির ব্যবস্থাও করেন দেন পাওনাদার এক মহিলা। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কিডনি বিক্রি করতে বেড়িয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা নিরিক্ষা হয়। চার-পাঁচজন মহিলারা সঙ্গে গিয়েছিল। মহিলারা ওখানে গিয়েও তাড়াহুড়ো করতে থাকেন। বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় কিডনি গৃহিতা পিছিয়ে আসেন। এরপর বাধ্য হয়ে মহিলারা বাড়ি ফিরে আসেন।

তারপর থেকে মানসিক অত্যাচার বেড়ে যায়। বিষয়টি ঘিরে লিপিকার পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ে।বাড়িতে হামলাও চালায় পাওনাদাররা। বাড়ির গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ব্যবসার মালপত্র ভাঙচুর করে লুটপাট চালানো হয়। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় লক্ষ টাকারও বেশি বলে দাবি পরিবারের।এরপরই প্রাণ বাঁচাতে পুলিশের দ্বারস্থ হয় গোটা পরিবার। এই ঘটনায় জগৎবল্লভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন লিপিকা সাঁতরা। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *