দীপাবলির আগে স্বদেশের পথে ১২ জন বাংলাদেশি নাবিক
কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ
দীপাবলির আগে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ঘরে ফিরে গেলেন গঙ্গাসাগরে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশি জাহাজের ১২ জন নাবিক। দেশে ফিরে যাওয়ার আগে, আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য এবং জিবিডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ কুমার পাত্র। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার নির্দেশে তাঁদের সঙ্গে দেখে করেন। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আটকে থাকা নাবিকদের দীপাবলির উপহারও তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের এক পণ্যবাহী জাহাজ মুড়িগঙ্গা নদীতে দুর্ঘটনায় পড়ে। মুড়িগঙ্গার চড়ায় ধাক্কা লেগে ডুবে গিয়েছিল ওই পণ্যবাহী জাহাজটি। দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজের নাবিক ও কর্মীদের উদ্ধার করে সাগর ব্লক প্রশাসন ও সাগর থানার পুলিশ। ওঁদের মধ্যে দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদেরকে ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় সাগর থানার পুলিশ। কয়েকদিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। আটকে পড়া ওই জাহাজের সকল কর্মী ও নাবিককে রাখা হয় সাগরের কৃষ্ণনগর ফ্লাড শেল্টারে।
এরমধ্যে বাংলাদেশ প্রশাসন তাদের নাবিকদের দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠায়। ওঁদের দেশে ফেরত পাঠাতে তৎপর ছিল জেলা প্রশাসনও। ভারত এবং বাংলাদেশ এই দুই দেশের হাইকমিশনেও এই বিষয়ে আলোচনা চলে। সমস্ত কিছু কাগজপত্র দেখার পর ঠিক হয় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর। সেইমতন শনিবার ভোররাতে তাঁদের গঙ্গাসাগর থেকে নিয়ে যাওয়া হয় পেট্রাপোল সীমান্তে। সেখানেই বাংলাদেশ প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।
সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা স্বয়ং এই উদ্যোগে অংশ নেন। তিনি ওই নাবিকদের জন্য নতুন বস্ত্রের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং সেই বস্ত্র পরিয়ে তাঁদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকায় খুশি নাবিক ও তাঁদের পরিবার। রাজ্য সরকারের এই মানবিক উদ্যোগে আপ্লুত বাংলাদেশি নাবিকেরা। স্বদেশে ফেরার সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এবং ভারতীয় প্রশাসনকেও এ জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

