পয়লা নভেম্বর থেকেই ধান কেনা শুরু করছে রাজ্য

চালু হচ্ছে ৬২০টি স্থায়ী, ১৭৯টি ভ্রাম্যমাণ ক্রয়কেন্দ্র
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো

নতুন খরিফ মরশুমের শুরুতেই রাজ্যের চাষিদের জন্য সুখবর খাদ্য দফতরের। ১ নভেম্বর থেকেই চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ধান সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এর পাশাপাশি খাদ্য দফতরের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করলে চাষিরা সর্বোচ্চ তিনটি কাজের দিনের মধ্যে ধানের দাম পেয়ে যাবেন। আর সেই টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। ধান বিক্রির পর কৃষকদের টাকা পেতে যাতে কোনও অসুবিধার সামনে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।
প্রসঙ্গত, আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে ২০২৫-২৬ মরশুমের ধান কেনা শুরু করছে সরকার। শুধু তাই নয়, এই ধান সংগ্রহের জন্য এবার খাদ্য দফতর ৬২০টি স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্র চালু করছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরও ১৭৯টি ভ্রাম্যমাণ স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্র, যেগুলি মূলত দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনবে। বিশেষ করে যেখানে নিকটবর্তী স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছতে চাষিদের অসুবিধা হয়, সেখানে এই ভ্রাম্যমান কেন্দ্রগুলি বড় ভূমিকা নেবে বলে জানাচ্ছে খাদ্য দফতর।
এছাড়াও, খরিফ মরশুমের সময়কালে বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী ধান ক্রয় শিবিরও চালানো হবে। এই শিবিরগুলি পরিচালনা করবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অস্থায়ী শিবিরে ধান কেনার পরের দিন সংস্থাগুলিকে সেই সব তথ্য খাদ্য দফতরে জানাতে হবে। খাদ্য দফতর সেই তথ্য যাচাই করে দ্রুত চাষির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে।
এই মরশুমে ধান বিক্রি করলে চাষিরা কুইন্টাল প্রতি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ২,৩৬৯ টাকা পাবেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ২০ টাকা করে বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে চাষিরা হাতে কুইন্টাল প্রতি মোট ২,৩৮৯ টাকা পাবেন।
তবে, ধান বিক্রির ক্ষেত্রে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছে খাদ্য দফতর। চাষিদের নির্দিষ্ট ক্রয়কেন্দ্রে নির্ধারিত দিনে গিয়ে ধান বিক্রি করতে হবে। যদি কোনও কারণে নির্ধারিত দিনে পৌঁছানো সম্ভব না-হয়, তাহলে পুনরায় বুকিং করতে হবে।
উল্লেখ্য, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, এই চার মাসের সময়কে ধান কেনার সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। ফলে এই চার মাসে ধান কেনার প্রক্রিয়াকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য দফতর। পাশাপাশি, ভ্রাম্যমান কেন্দ্রের অবস্থান কোথায় এবং কখন হবে, সেই তথ্য খাদ্য দফতরের পোর্টালে ৪৫ থেকে ১৫ দিন আগে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *