বাড়ি-বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম বিলির প্রথম দিনই একাধিক অভিযোগ
কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র মঙ্গলবার বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও। এর মধ্যেই বাধার মুখে পড়েছেন বিএলও-রা। একাধিক অভিযোগ এসেছে। হাওড়ায় পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘বাধা’। বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় বুথ লেভেল অফিসারের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বীরভূমে ক্যাম্প করে ফর্ম বিলির অভিযোগ উঠেছে বিএলও-র বিরুদ্ধে।
এদিন হাওড়ায় বাধার মুখে পড়েছেন বিএলও-রা। দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে হাওড়া পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর বুথে বেলাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বাগনান খালোড় কবিগুরু শিক্ষায়তনের শিক্ষিকা অনুপমা দাস উনসানি গড়পায় বিএলও হিসাবে বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ শুরু করছিলেন। কয়েকটি বাড়িতে ফর্ম দেওয়ার পর বেশ কিছু বাড়ির লোক তার কাছে নির্বাচন কমিশনের পরিচয় পত্র দেখতে চান। অনুপমা দাস জানিয়েছেন, একদিন আগে পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের অফিস থেকে তাদের কোন পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। সেই কারণে তার পক্ষে তা দেখানো সম্ভব হয়নি। আর এতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ জাগে। তাকে ঘিরে শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। ওই শিক্ষিকা মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে কমিশনের দেওয়া চিঠি এবং অন্যান্য কাগজপত্র তাদের দেখালেও অনেকেই তা বিশ্বাস করেনি বলে অভিযোগ। এই নিয়ে বচসা শুরু হতেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে জগাছা থানার পুলিশ। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিনের মতো কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঘটনাস্থল ছাড়েন বিএলও। স্থানীয়দের বক্তব্য, ‘যিনি এসেছেন তিনি বিএলও কি না বুঝব কী করে? পরিচয়পত্র না দেখালে আমরা কী করে বিশ্বাস করব?’ কমিশন থেকে তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি, দাবি বিএলও-র।
অন্যদিকে, হুগলির সিঙ্গুরে সকাল থেকেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যান দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও। সিঙ্গুর-২ পঞ্চায়েতের ১১২ নম্বর বুথে ভোটারদের বাড়িতে যান। এনুমারেশন ফর্ম দিয়ে খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিয়েছেন বিএলও। কীভাবে ফর্ম পূরণ, কী কী নথি দিতে হবে, বোঝাচ্ছেন। দিচ্ছেন নিজের ফোন নম্বর, অসুবিধা হলে ফোন করার পরামর্শ । বিএলও কে সাহায্য করতে সঙ্গে রয়েছেন বিএলএ-রা। অন্যদিকে বীরভূমের সাঁইথিয়ায় ক্যাম্প করে ফর্ম বিলির অভিযোগ উঠল বিএলও পিন্টু প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফর্ম বিলির প্রথম দিনই কোনও ভোটারের বাড়িতে না গিয়ে, ক্যাম্প করে ফর্ম দেন সাঁইথিয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা পিন্টু প্রামাণিক। এই ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত তৃণমূল, বিজেপি—সব পক্ষই। বিজেপির তরফে ক্যাম্পের ছবি তুলে অভিযোগ জানানো হয় জেলাশাসকের দপ্তরে। আর এর পরেই অভিযুক্ত বিএলও কাগজপত্র গুটিয়ে নিয়ে দুয়ারে ফর্ম নিয়ে হাজির হন। তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, ‘এটা নিয়ম বহির্ভূত। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়ে আসার কথা। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এর মধ্যে রাজনীতির কোনও গন্ধ আছে কি না এবং এ রকম কিছু যাতে না ঘটে, আমাদের নজর রাখতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এনুমারেশন-পর্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দেবেন বিএলওরা। ফর্ম ফিল আপের পর সেগুলো গ্রহণ করবেন তাঁরা। তারপর যাবতীয় নথি মিলিয়ে দেখা হবে। এনুমারেশন ফর্মের কাজ মিটে গেলে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাঁদের নাম মেলেনি, তাঁদের নোটিস পাঠানো হবে। কারও কোনও দাবি এবং আপত্তি থাকলে তার শুনানি হবে। সব ঠিকঠাক হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই টানাপোড়েন একেবারে সপ্তমে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক কথাই বলছে। এরমধ্যেই মঙ্গলবার পথে নেমেছেন মমতা-অভিষেক। কমিশনকে নিশানা করে একযোগে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও তৃণমূল সেনাপতি। কলকাতার মহামিছিল শেষে জোড়়াসাঁকোর সভা থেকে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা থাকতে বাংলার একজন যোগ্যরও নাম বাদ দিতে দেব না। প্রয়োজনে নিজেদের জীবনের রক্ত দিয়ে হলেও তা রক্ষা করব।” পিছিয়ে নেই বিরোধী দলনেতা। একই দিনে একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে (সিইও অফিস) গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, এনুমারেশন ফর্মের সঙ্গে জমা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র এমনটাই অভিযোগ শুভেন্দুর।

