বাংলার ভোটাধিকার রক্ষার্থে মহামিছিলে হাঁটলেন মমতা-অভিষেক, দিলেন কড়া বার্তা
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো
‘আগে করেছিল নোট বন্দি, এখন করছে জনবন্দি’। বাংলায় এসআইআর শুরুর দিনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথে নেমে এমনই ভাষায় বিদ্ধ করলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। সঙ্গে এও বলেন, ‘ভোটার লিস্টে নাম না পেলে আমাদের ক্যাম্পে যান। প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমরা থালা বাটি বেচে সাহায্য করব। কাগজ না থাকলে ওয়ার্ড অফিসে যান। কিছু না থাকলে ক্যাম্প অফিসে থাকুন। আমি চাই সবার নাম ভোটার লিস্টে থাকুক। জনগণের শক্তি বড় শক্তি।’ বিহারের পর এবার এসআইআর শুরু হয়েছে বাংলায়। আর এদিনই পথে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে অভিষেক। মঙ্গলবার রেড রোডের আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশ থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত মিছিল করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এদিন এই পদযাত্রা ঘিরে জনজোয়ার দেখল কলকাতাবাসী।
মিছিল শেষে তৃণমূল সুপ্রিমো তুলে ধরেন পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্বেগের কথা। বলেন, ‘কেউ হকার, বিজনেস করে, কেউ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে, পরিযায়ী শ্রমিক সবাই ভাবছে আমার নাম বাদ যাবে না তো?’ পাশাপাশি বিজেপিকে বিদ্ধ করে জানান, ‘বাংলা বললে সবাই বাংলাদেশি নয়। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয় না। হিন্দি ভাষায় বলে সবাই পাকিস্তানি হয়ে যায় না। যে যেখানে কাজে যাচ্ছে, বাংলাদেশি অ্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এই মূর্খদের মাথায় ছিল না।’ পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, ‘স্বাধীনতার আন্দোলনে বিজেপি কোথায় ছিল তা নিয়েও। এরই রেশ টেনে মমতা এদিন এও বলেন, ‘১৯৪৭ সালের আগে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এক সঙ্গে ছিল। এই দিয়ে ভুল ভিডিয়ো ছড়ায় আমার নামে। বিজেপি সবচেয়ে বড় মানুষের টাকা লুটেরা।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এসআইআরকে ঐতিহাসিক বলে দিয়েছে। অথচ এখন বলছে আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তাহলে এত টাকা কেন তোলা হয়েছিল আধার কার্ড বানানোর জন্য?
মমতার দাবি, বিজেপি বলছে এখনকার ভোটারকার্ড নাকি বৈধ নয়। তাহলে তো এই সরকারও অবৈধ, বলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘যদি এই ভোটার কার্ডের তালিকা মিথ্যা হয়, তাহলে আপনারাও অবৈধভাবেই ক্ষমতায় আছেন। ওদের লক্ষ্য হল প্রতি বছর কিছু না কিছু করে মানুষকে বিপদে ফেলা। ৫০০ টাকার নোট বাতিল করে দেশের মানুষকে বিপদে ফেলেছিল। তখন আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। নোটবন্দিতে শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছিল। কিন্তু কালো টাকা তো ফেরত আসেনি। কোনও শোক প্রস্তাব হয়নি। নির্লজ্জ! নোটবন্দি করেছে। ব্ল্যাকমানি বিদেশ থেকে আনতে পারেনি। তাহলে লাভ কী হল? যখন যেটা মর্জি সেটা করে এই সরকার। এভাবে চলতে পারে না।’ এই প্রসঙ্গেই ‘করতে লুঠ, বলতে ঝুট’, এদিন এমনও স্লোগান এদিন তুলতে শোনা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে।
পাশাপাশি কেন্দ্রকে বিদ্ধ করে তৃণমূল সুপ্রিমোর আক্রমণ, ‘এক তো দেশে মীরজাফর আছে, যাঁর হাতে রক্তের দাগ রয়েছে, আপনি কি ভাবছেন, ওরা সব স্বর্গে যাবে? নিজেদের দলেই তো কত বিভেদ? আসলে বাংলার ওপর ওদের খুব রাগ। বাংলার সঙ্গে ওরা পেরে ওঠে না। গদিওয়ালারা ভাবছে, যেন তেন ভাবে ২ কোটি লোকের নাম বাদ দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিই, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিই, কিংবা দেশ থেকে তাড়িয়ে ওদের ক্ষমতা দখল করে নিই। ২০০৪ এ আমি ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়ে আমি একা জিতেছি। যারা আপনাদের ভোট দিত তারা আমাদের ভোট দেবে। আজ প্রমাণ দিতে হবে আমরা ভারতীয় নাগরিক কিনা! আজ হঠাৎ মোদি, অমিত শাহ কে সন্তুষ্ট করতে আপনার ‘ইতিহাস’ ‘পাতিহাঁস’ হবে।’
এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘আসলে বাংলার উপর ওদের খুব রাগ। কারণ ওরা জানে, বাংলাকে দমন করা যাবে না। ওরা ভাবছে ২ কোটি মানুষের নাম বাদ দেবে। তারপর বাংলাদেশে বা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। তবে এবার সেই সব মানুষরা আমাদের ভোট দেবে। কারণ এটা তাদের অস্তিত্বের সংকট।’
এর পাশাপাশি মমতার দাবি, একাধিক জেলায় ভোটারদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মমতা এদিন এও জানান, ‘কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের ভোটার তালিকা দেখলাম। আগে ৭০০ ভোটার ছিল। এখন দেখছি ম্যাপিংয়ে ৫২৬ জন ভোটারের নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।’
একইসঙ্গে এদিনের মঞ্চ থেকে মনে করিয়ে দেন, এর আগে নির্বাচন কমিশন এসআইআর করার জন্য দুই থেক আড়াই বছর সময় নিয়েছিল। আর এখানেই মমতার প্রশ্ন, সেক্ষেত্রে এখন কেন ভোটের আগে তড়িঘড়ি সংশোধন করা হচ্ছে তা নিয়েও। একইসঙ্গে তাঁর হুঙ্কার, ‘একটা নামও বাদ গেলে বিজেপির সরকার ভেঙে দেব। ২০২৪ সালে আপনারা যে জিতেছিলেন, কোন ভোট নিয়ে জিতেছিলেন? কোন ভোটার লিস্ট ছিল? যদি এই লিস্ট মিথ্যা হয়, তাহলে আপনার সরকারও মিথ্যা। আপনাদের চেয়ারও মিথ্যা। আমাদের কাছেও তথ্য কম নেই।’
এর পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম নেই। যার নাম নেই আমাদের ক্যাম্প এ যাবেন। বাবা মা’র সার্টিফিকেট না থাকলে অন্যান্য সার্টিফিকেট দেখিয়ে নাম তুলুন। বুদ্ধি খরচ করুন। সঙ্গে এও মনে করিয়ে দেন, ‘আমাদের সময়ে বাড়িতেই প্রসব হতো। কিন্তু আমরা যখন ßুñলে ভর্তি হয়েছি, আমাদের একটা ডেট অথ বার্থ দেওয়া হয়েছিল। আমি ৭ বার সাংসদ, ৪ বারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও আমার ডেট অফ বার্থ নিয়ে কৈফিয়ত দিতে হবে? আমাদের ভদ্রতা আমাদের দুর্বলতা নয়।’

