এসআইআর শুরুতেই উলুবেড়িয়া ও মুর্শিদাবাদে আত্মঘাতী ২, গত ৭ দিনে মোট ৯ জন

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো

মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এসআইআর। তবে রাজ্যে এসআইআর হবে এই ঘোষণার দিন থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন বহু মানুষ। গত সোমবার অর্থাৎ এসআইআর শুরু আগের দিন পর্যন্ত গত ৬ দিনে সাতজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। আগরাপাড়া, ইলামবাজার, জামালপুর এবং ডানকুনিতে এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আর ইনুমারেশন ফর্ম বিলির দিনেই দু’জন আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, এসআইআর আতঙ্ক থেকেই এমন চরম সীদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁদের আত্মজ। যে দুটি আত্মহত্যার ঘটনার খবর প্রকাশ্যে এসেছে সেগুলি হল হাওড়ার উলুবেড়িয়ার মালপাড়ার বাসি¨া জাহির মাল এবং মুর্শিদাবাদের কা¨ির মোহন সেখ।
এ দিন এসআইআর শুরু হতেই প্রথম আত্মহত্যার খবর আসে হাওড়ার উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকের মালপাড়া এলাকা থেকে। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে দিনমজুর জাহির মালের ঝুলন্ত উদ্ধার। তৃণমূলের অভিযোগ, নেপথ্যে রয়েছে সেই এসআইআর আতঙ্ক।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় জাহিরের নাম নেই। জাহিরের বেশকিছু নথিতে নামের বানান ভুল ছিল। সে বিভিন্ন জায়গায় নামের বানান ঠিক করার জন্য গিয়েছিলেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। এরফলে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন জাহির। বারবার বলেছিলেন, আমাকে দেশছাড়া হতে হবে না তো?
মালপাড়ায় দীর্ঘদিনের বাসিন্দা জাহির মাল। বেশ কিছুদিন ধরেই এসআইআর আতঙ্কে ভুগছিলেন জাহির। তাঁর স্ত্রী জানান, সোমবার রাতে খেতে বসেও আতঙ্ক প্রকাশ করেছিলেন জাহির। স্ত্রীর দাবি, উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের হয়তো ভোটার তালিকায় নাম নেই। হতে পারে তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে। রাতে স্ত্রী তাঁকে অনেকবার বোঝান। এরপর তিনি ঘুমোতে চলে যান বলে স্ত্রীর দাবি। মঙ্গলবার সকালেও জাহির ঘুম থেকে উঠে চুপ করে বসেছিলেন। স্ত্রী বাজার করতে বেরিয়েছিলেন। বাড়িতে একা ছিলেন জাহির। ফিরে এসে ঘরের ভিতর স্বামীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে জাহিরের বাড়িতে যান রাজ্যের পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী মন্ত্রী পুলক রায়। তিনি পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী পুলক রায় বলেন, ‘তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মতো তিনি এসেছেন। এসআইআর আতঙ্কে আজও একটা ছেলে আত্মহত্যা করল। আমরা বিজেপির কাছে বলব মৃত্যুর রাজনীতি বন্ধ করুন। আর কমিশনের কাছে বলব এসআইআর বন্ধ করতে।’
দ্বিতীয় আত্মহত্যার ঘটনার খবর আসে মুর্শিদাবাদের কান্দি পুরসভার ১২নং ওয়ার্ডের বাগডাঙ্গা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মোহন শেখ। এসআইআর আতঙ্কে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন মোহন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মোহন শেখের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। কয়েকদিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন মোহন। নিজের বাড়ি ঘড় ছেড়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে এই ভয়ে এই আতঙ্কে মঙ্গলবার সকালে পাড়ার মাঠে কীটনাশক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই রাস্তায় তাঁর মৃত্যু হয়। গোটা ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
মৃতের ভাই বলেন, ‘২০০২ সালের তালিকা নাম ছিল না। ভয়ে খাওয়া দাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিল দাদা। বলছিল, আমাকে বাইরে পাঠিয়ে দেবে। ও বিষ খেয়ে নিল। বিষ খেয়ে মাঠে পড়েছিল, সে সময়ই ওকে আনতে গিয়েছিলাম, তখনই বলে, আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে, তাই বিষ খেয়ে নিয়েছি।’ ঘটনার খবর শুনে এক এক করে ছুটে যান তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *