বিহারের মসনদে কে জানা যাবে শুক্রবার
কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ
বিহারে ভোটের ফলাফলের দিকে নজর সকলের। কারণটা এই ভোটের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে অনেকটা। প্রথমতঃ বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর ভোটগ্রহণ হয়েছে বিহারে। দ্বিতীয়ত, বিহারে ২ দফায় নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পন্ডিচেরি রাজ্যে ভোট। কাজেই এই ফল আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মতো দলের কাছে বড়ো অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এ রাজ্যের ভোটের লড়াইটা দ্বিমুখী নাকি ত্রিমুখী তার থেকে বড়ো প্রশ্ন মমতার বিরুদ্ধে লড়াই। ক্ষমতাশালী দল তৃণমূলের সঙ্গে ইঞ্জিতে-ইঞ্চিতে লড়াই দিতে হবে বিরোধী দল বিজেপিকে।
বিহারে ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৮টা জেলার ১২১টা আসনে রেকর্ড ৬৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একে ঐতিহাসিক ভোটদান হিসেবে বর্ণনা করেন। তেজস্বী যাদব, তেজ প্রতাপ যাদব এবং সম্রাট চৌধুরীসহ ১৩১৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে প্রথম দফায়। পরিসংখ্যান বলছে এর আগে মাত্র তিনবার ৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে৷ ১৯৯০ সালে ৬২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে ৬১ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ২০০০ সালে ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল বিহারে। এছাড়া ২০২০ সালের হিসাব বলছে প্রথম দফায় বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এবং দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় বিহারে ১২২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় মঙ্গলবার। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিহারে ভোট পড়েছে ৬৭ শতাংশেরও বেশি। বিহারে বিধানসভা ভোটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এই ভোটদানের হার সর্বোচ্চ। আগামীকাল ১৪ নভেম্বর সকাল থেকে ফলঘোষণা। টিভির পর্দায় চোখ থাকবে বিহারবাসীর।
গত কয়েকমাস ধরেই আলোচনা চলছিল মহাগঠবন্ধন জোট শিবির পারবে ক্ষমতায় থাকা এনডিএ-মতো শক্তিশালী জোটকে পরাস্ত করতে? বুথফেরত সমীক্ষা যতই দেখাক নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে এনডিএ। তারপরেও মহাগঠবন্ধন জোট আশাবাদী, তারাই আরজেডির নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করবে। এবং মুখ্যমন্ত্রী হবেন তেজস্বী যাদব। তবে অনেকেই তাকিয়ে আছেন, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টির দিকে। তবে বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় জন সুরজ পার্টিকে মাত্র ২টি সিট দিচ্ছে। যদিও বুথফেরত সমীক্ষা সঠিক হয় না। এটা ফলের আভাস দেয় মাত্র। তাই অনেকেই বলছেন, বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে এনডিএ শিবিরকে প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি আসন দেওয়া হয়েছে। তাই ক্ষমতা দখলে বিজেপি আত্মবিশ্বাসী হলেও, কংগ্রেস ও আরজেডির মহাগঠবন্ধন ক্ষমতা আশা নিয়ে আশাবাদী।
বিহারে ভোট গণনার দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দল এবং নেতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। জানা গেছে, ১৪ নভেম্বর সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনা প্রক্রিয়ার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গণনা কেন্দ্রগুলিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা সর্বত্র লাগানো হয়েছে। এখানকার ফলাফল বিজয়ী আগামী বছর ৫ রাজ্যের নির্বাচন বেশি অক্সিজেন নিয়ে মাঠে নামবে। অন্যদিকে শুক্রবার গণনার দিন সমীক্ষার ফল মিলে গেলে টানা পাঁচবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন নীতীশ কুমার। যদি পাশার দান উল্টে দিতে পারে মহাগঠবন্ধন তবে নতুন করে এক্সিট পোল প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।

