শ্রীনগরে বিস্ফোরণে উড়ে গেল থানা, মৃত ৯
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো শ্রীনগর: লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যুর আতঙ্ক তাড়া করছে এখনও। এরইমধ্যে শুক্রবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীরে নওগাম থানায় আবারও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। তাতে প্রাণ হারালেন ৯ জন। আহত ২৭।
সম্প্রতি ফরিদাবাদ থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া বিস্ফোরক রাখা ছিল অনন্তনাগ জেলার এই নওগাম থানায়। এদিন রাতে সেই বিস্ফোরক নিয়ে পরীক্ষা চলছিল। সে সময় কোনও কারণে বিস্ফোরণের এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আহত ও নিহতদের অধিকাংশই পুলিশ কর্মী। আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
গত সোমবার দুপুরে ফরিদাবাদের একটি বাড়ি থেকে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ ২ হাজার ৯০০ কিলো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ঘটনায় মুজাম্মিল গনাই নামে এক চিকিৎসক-সহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। মুজাম্মিলের বাড়ি পুলওয়ামায়। দীর্ঘদিন ধরেই তার গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ ছিল উপত্যকার পুলিশের। সেই সূত্র ধরে ফরিদাবাদের জঙ্গি মডিউলের বিষয়টি জানতে পারেন তদন্তকারীরা। সেই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। পরে সেটিকে এই নওগাম থানায় এনে রাখা হয়। এদিন সেই সমস্ত বিস্ফোরকে গতি-প্রকৃতি জানার কাজ চলছিল। নওগাম থানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় চার জনের মৃত্যুর কথা সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। তাঁদের দেহ আপাতত স্থানীয় পুলিশ কন্ট্রোল রুমে রাখা আছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় ২৪ পুলিশ কর্মী ও তিন সাধারণ নাগরিককে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর। তাঁদের মধ্যে কয়েজনের শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে থানার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বম্ব স্কোয়াড বেশ কিছু তাজা বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। এদিকে, দিল্লি বিস্ফোরণে আত্মঘাতী জঙ্গি চিকিৎসক উমর নবির পুলওয়ামার বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি যে উমর নবি-ই চালাচ্ছিল, তা ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হওয়ার পরই এমন সিদ্ধান্ত। শুক্রবার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে পুলওয়ামা জেলায় উমরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাড়ি ভাঙার কাজ চালানো হয় বলে প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন। আধিকারিকদের মতে, উমর বিস্ফোরকবোঝাই হুন্ডাই আই২০ গাড়ির চালকের আসনে ছিল। বিস্ফোরণস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা তার মায়ের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ার পর তার পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে তদন্তকারীরা।
তদন্ততকারীদের দাবি, উমর জইশ-ই মহম্মদের জঙ্গি মডিউলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল। শিক্ষা এবং পেশাগতভাবে নিজের দক্ষতার প্রমাণও দিয়েছিল। আর সে কারণেই, মূলত গত দু’বছরে উমর এই জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছিল বলে দাবি। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্ল্যাটফর্মেও যোগ দিয়েছিল সে।

