আর কত প্রাণ যাবে কমিশনকে প্রশ্ন মমতার
রাজন্যা নিউজ, কলকাতা:
এসআইআরের কাজ নিয়ে জটিলতা ক্রমে বেড়ে চলেছে। নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ করতে চাপ দিচ্ছে। এদিকে পরিকাঠামোগত নানা ত্রুটি রয়েছে। ফলে দ্রুত কাজ সারা মুশকিল। পাহাড়প্রমাণ চাপের কাছে হার মেনে বিএলও’দের একাংশ জীবন নিজের হাতে শেষ করে দিচ্ছেন। সুইসাইড নোটে সেকথা উল্লেখও করছেন। এর জেরে শনিবার নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে মমতার প্রশ্ন, ‘এসআইআরের চাপে এভাবে আর কত জীবন নষ্ট হবে? আর কত মৃতদেহ গুনতে হবে? এটা অত্যন্ত গুরুতর ব্যাপার হয়ে উঠছে।’ মমতা আরও লিখেছেন, ‘কৃষ্ণনগরের চাপড়ার ২০১ নম্বর বুথের বিএলও পেশায় পার্শ্বশিক্ষিকা রিঙ্কু তরফদারের (৪৭) মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি মর্মাহত। সুইসাইড নোটে এসআইআরের কাজের চাপের কথা লিখে গিয়েছেন তিনি।’
এসআইআরের কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ নিয়ে রাজ্যে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের চাপড়া থানার ২০১ নম্বর বুথের বিএলও রিঙ্কু তরফদারের ঝুলন্ত মৃতদেহ তাঁর ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের ™াশে মিলেছে মৃত্যুর কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করা সুইসাইড নোট।
পুলিশ সূত্রের খবর, সুইসাইড নোটে রিঙ্কু লিখেছেন, ‘আমি কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। তবে এসআইআরের কাজের চাপ নিতে পারছি না। আমার এই পরিণতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।’
রিঙ্কু এও জানিয়েছেন, অফলাইনে কাজ শেষ করলেও অনলাইনের কাজ সম্পর্কে জানার জন্য সহায়তা চেয়ে কোনও সাহায্য পাননি। সুুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন, ‘আমার স্বামী, ছেলেমেয়ে কেউ আমার মৃত্যুর জন্যে দায়ী নন। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম।’
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়। কমিশনের চাপেই মৃত্যু হয়েছে রিঙ্কুর। ঘটনায় হতবাক রিঙ্কুর স্বামী অসীম তরফদার। তিনি বললেন, ‘সঠিক সময়ে ফর্ম বিলি করেছে। তবে ডিজিটাল আপলোডের ব্যাপারে তেমন কিছু জানত না ও। বারংবার জানতে চাইলেও কোনও সুরাহা হয়নি।’
বিএলও’দের উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। ফলে চাপ একটু থাকবে। বিহারে এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আমরা এখানে পারব না, পরিস্থিতি এমন নয়।’
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের জটিল ডিজিটাল প্রক্রিয়া, শাস্তির আতঙ্কে কর্মীদের উপর বিপুল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে একের পর এক বিএলও’র মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। এসআইআরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদার। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির মাল ব্লকে শান্তিমুনি ওঁরাও আত্মঘাতী হয়েছেন। এছাড়া হুগলি কোন্নগরের একজন বিএলও গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন।
এদিন মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।’ অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সোমনাথ কর বলেন, ‘সব মৃত্যুই দুঃখজনক। রিঙ্কুর মৃতদেহের পাশ থেকে মেলা সুইসাইড নোটটি ওঁরই কিনা তা খতিয়ে দেখা হোক পুলিশি তদন্তে।’ প্রসঙ্গত, রিঙ্কুর মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

