মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন অভিষেকের নিশানায় কমিশন
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো: কলকাতা রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলেই এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া পরিকল্পনাহীন। দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কমিশনকে একহাত নিয়ে অভিষেক বলেন, যতই বিজেপির বি টিম হয়ে কাজ করুক কমিশন, ছাব্বিশে ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা ব¨্যােপাধ্যায়। এ দিন ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতা থেকে জনপ্রতিনিধি মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার জনকে উপস্থিত ছিলেন। এসআইআর নিয়ে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি জেলার নেতাদের পারফর্ম্যান্স নিয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এর আগেও বৈঠক করে এসআইআর নিয়ে টাস্ক দিয়েছিলেন অভিষেক। এদিনও জেলার নেতাদের পারফর্ম্যান্সে নজর দেন তিনি। জানা যাচ্ছে, মতুয়াগড়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আরও একবার ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বলেন, ‘পরিকল্পনাহীন এসআইআর। ৩৫ জনকে হারাতে হয়েছে শুধুমাত্র বিজেপির দম্ভের কারণে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও কথা না বলেই এসআইআর করা হচ্ছে। এসআইআর যে বাংলা বিরোধী, তা প্রমাণিত।’
বৈঠকের শুরুতেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কমিশন যতই বিজেপির বি টিম হয়ে কাজ করুক না কেন, ছাব্বিশের ভোটে জিতে ফের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তবে এ ব্যাপারে কর্মীদের আত্মসন্তুষ্ঠিতে না ভোগার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘এসআইআরের নামে বিহারের কায়দায় বাংলাতেও প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তাই মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র রক্ষা করতে এখন এক একটা দিন যুদ্ধের মতো।’
এরপরই কর্মীদের টাস্ক জানিয়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, আগামী ১৫০ দিনই ঠিক করবে বাংলার আগামী ২০ বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, তাই কোনও শৈথিল্যের জায়গা নেই।
অভিষেক বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় কম। এই ১৫০ দিনে কর্মীদের উৎসাহে ভাটা পড়লে চলবে না। সংগঠনের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এন্যুমারেশন প্রক্রিয়া নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা।’
বিএলও-অ্যাপে প্রয়োজনীয় অনেক তথ্য নেই, জানিয়ে অভিষেক বলেন, এই গাফিলতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষকে কেন হাজিরা দিতে হবে? এটা কমিশনের ভুল। ওদের চেপে ধরতে হবে, কড়া ভাষায় মন্তব্য তাঁর।
বিধায়কদের প্রতি নির্দেশ, প্রতিটি বুথের অন্তত ১৫ জন বিএলএ’কে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ভিডিয়ো কলে বা বাড়ি গিয়ে সক্রিয় করতে হবে। অভিষেকের সতর্কবার্তা, ‘একটা দিন চলে গেলে আর ফেরত আসে না।’
লোকসভা ও রাজ্যসভা সাংসদদের জন্যও স্পষ্ট রূপরেখা দেন অভিষেক। রাজ্যসভার সদস্যদের প্রতি নির্দেশ, প্রতিদিন অন্তত ৫০টি ফোন করে কর্মীদের উৎসাহ দিতে হবে। লোকসভার সাংসদ’রা শহর এলাকায় একই কাজ করবেন। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত মাঠে থেকে ক্যাম্পে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই সাংসদ-বিধায়কদের কাজে সক্রিয়তা নিয়ে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ৫ ডিসেম্বর ফের রিপোর্ট চাইতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৬ ডিসেম্বর অভিষেক সেই রিপোর্ট পাঠাবেন।
কিছু বিধানসভায় মাত্র ১৫-২৫ শতাংশ ফর্ম জমা পড়েছে, এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেক দাবি করেন, ড্রাফট রোল থেকেই বিজেপি ও কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দিতে চাইছে। তাঁর অভিযোগ, ‘যেভাবে দিল্লিতে ২০ হাজার নাম বাদ দিয়ে ২০ হাজার যোগ করা হয়েছিল, বাংলায়ও সেই অপচেষ্টা চলছে।’
অভিষেক অভিযোগ করেন, এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জন মানুষ, যার মধ্যে রয়েছেন তিনজন বিএলও। তাঁর দাবি, এটা মানুষের অধিকারের উপর ‘নির্লজ্জ আঘাত’।
এন্যুমারেশন ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে, ৯ ডিসেম্বর ড্রাফট রোল প্রকাশ এবং ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, এই সময়সীমা সামনে রেখে তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ভোট রক্ষা শিবির চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ১০০ শতাংশ ফর্ম সাবমিশন। ৯৯ শতাংশ নয়;১০০ শতাংশ।’
অভিষেকের কথায়, এখন প্রতিটি কর্মীর দায়িত্ব, একজন যোগ্য ভোটারের নামও যাতে বাদ না যায়, তার সুনিশ্চিত করা। এটাই লড়াই। এটাই ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম।’

