দৃষ্টান্ত স্থাপন সূর্যকান্তের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে আজ দেশের প্রধান বিচারপতি!
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো নয়াদিল্লি নিষ্ঠা সহকারে কাজ করলে মানুষ পেশাগত ক্ষেত্রে চরম সাফল্য পেতে পারে। এরই নমুনা তৈরি করলেন সুপ্রিম কোর্টের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। হরিয়ানার কোনও বাসি¨া এই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হলেন। উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে সুপ্রিম কোর্টের পথচলা শুরু।
প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই অবসর নেওয়ারপরে সূর্যকান্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের যুব সমাজ তথা ছাত্রসমাজকে বার্তা দিলেন, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে সাফল্যের চরমসীমায় পৌঁছনো সম্ভব। ১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সূর্য কান্তর জন্মদিন। হরিয়ানার হিসারে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার ßুñলে লেখাপড়া করেছেন। আগামী ১৪ মাস অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সূর্যকান্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাবেন। তাঁর জীবন নিয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একগুচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা এদেশের যুব সমাজকে জীবনে সাফল্যলাভে প্রেরণা জোগাবে।
হিসার-চণ্ডীগড় হাইওয়ে সংলগ্ন গ্রাম পেটওয়ার। গ্রামের ßুñল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। এরপর হিসারের গভর্নমেন্ট পিজি কলেজে লেখাপড়া করেছেন। ১৯৮৪ সালে রোহতকের মহর্ষি দয়ান¨ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি করেন। এরপর বিচারপতি হিসেবে কাজ করাকালীন ২০১১ সালে কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম করেন। সূর্যকান্ত বলেছেন, ‘আমার আগে আমাদের পরিবারের কেউ আইনজীবী ছিলেন না। তিন ভাই এবং এক বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আমি। আমার বাবা সরকারি ßুñলের সংßৃñতের শিক্ষক ছিলেন। মা গৃহবধূ। বাবা-মা আমাকে বরাবর লেখাপড়া করতে উৎসাহ দিয়েছেন।’
সূর্যকান্তের দাদা ঋষিকান্ত জানিয়েছেন, পেটওয়ারে পারিবারিক ১২ একর জমিতে গম চাষ করা হত। লেখাপড়ার পাশাপাশি ßুñলে পড়াকালীন সূর্য কান্ত গম চাষের কাজে সহায়তা করতেন। ভাই নিজের চেষ্টায় ধাপে ধাপে উন্নতি করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ায় সকলেই খুশি। আসলে মেধার জয় হয়েছে। সূর্য কান্তর সহপাঠী রাজ বাহাদুর যাদব ফতিহাবাদের একটি সরকারি ßুñলের প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করার পরে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি বললেন, ‘সূর্যকান্ত সবসময়েই মাটির মানুষ।’
এলএলবি পাশ করার পরে ১৯৮৪ সালে একবছর হিসার জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন সূর্য কান্ত। এরপর চণ্ডীগড়ে হরিয়ানা হাইকোর্টে কাজ শুরু করেন। সূর্য কান্তর সঙ্গে হিসার জেলা আদালতে একইসময়ে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন পি কে সানধীর। তিনি বললেন, ‘সেসময় হিসার জেলা আদালতে আইনজীবীরা হি¨ি ও ইংরেজি মিলিয়ে সওয়াল করতেন। কিন্তু সূর্য কান্ত অত্যন্ত ভালো ইংরেজি জানতেন। ইংরেজিতে সওয়াল করতেন।’
৯০ -এর দশকে নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে চণ্ডীগড়ের একজন নামী আইনজীবী হয়ে ওঠেন সূর্য কান্ত। এরপর ২০০০ সালে মোটে ৩৮ বছর বয়সে হরিয়ানার সর্বকনিষ্ঠ অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর চার বছরের মাথায় আরও উন্নতি হয়। হরিয়ানা এবং পঞ্জাব হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত সূর্য কান্ত হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে কাজ করেন। ২০১৯ সালের মে মাস থেকেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে কাজ করছেন। হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট মিলিয়ে সূর্যকান্তর কাজের অভিজ্ঞতা ২১ বছরের।
পঞ্জাব এবং হরিয়ানা বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান অমিত রানার কথায়, ‘সূর্যকান্ত এমন একজন মানুষ, যিনি বরাবর শিকড়ের প্রতি টান অনুভব করেছেন। পেশাগত ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বিপুল উন্নতি করার পরও শিকড়কে বিস্মৃত হননি। ’ উল্লেখ্য, সূর্যকান্ত প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে সোমবার হিসারবার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা ধূমধাম করে পালন করেছেন গ্রামের সাধারণ ছেলে থেকে প্রধান বিচারপতি হয়ে ওঠা সূর্য কান্তর সাফল্য।

