বীরভূমের মাঠে চিকিৎসক হওয়ার ‘স্বপ্নে’ ভিন রাজ্যের ‘ফাস্ট গার্ল’

দীপিকা অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

ধান কাটার মরশুম শুরু হতেই ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে এসেছেন বাবুলাল মারান্ডি ও তাঁর পরিবার। ধান কেটে অর্থ উপার্জনের পাশপাশি স্বপ্ন দেখেন মেয়েকে ডাক্তার করানোর। কিন্তু অর্থ ও স্থান দুটোর অভাব। বছরের বেশ কয়েকমাস অন্যত্র চলে যেতে হয়। কিন্তু তাতে কি। পরিবারের লোকজন যখন যেখানে যায় বই-খাতা নিয়ে চলে যায় ‘ফাস্ট গার্ল’ নিকিতা। ধান কাটায় ব্যস্ত বাবা-মা। জমিতেই প্ল্যাস্টিক বিছিয়ে বই পড়ায় ব্যস্ত থাকে ছোট্ট নিকিতা। চখেমুখে লড়াই স্পষ্ট, বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায়। মা-বাবা ও গ্রামের গরিব মানুষদের চিকিৎসা করবে।

শীতের সময় ধান কাটার কাজে বর্ধমান-বীরভূমে আসেন ভিন রাজ্যের বহু শ্রমিক। মাস কয়েক ধান কাটার কাজ করে ফিরেও যান তাঁরা। এমনি এক পরিবারের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার এলাকায় এসেছেন ছোট্ট নিকিতা। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ক্লাসের ফাস্ট গার্ল সে। দম্পতি বাবুলাল মারান্ডি ও কারমেলা হেমব্রম এখানে চলে আসলে মেয়েকে রাখবে কোথায়। তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছে। পরিজনেরা যখন ধান কাটার কাজে ব্যস্ত তখন বই নিয়ে মাঠের এক কোনে বসে বই পড়ায় ব্যস্ত সে। নিকিতার কথায়, এই কয়েকমাসে যেন পড়াশোনায় কোন ক্ষতি না হয়। তাই মা-বাবা মাঠে ধান কাটতে যাওয়ার পরই বাড়িতে তো আবাব কখনও মা-বাবার সঙ্গে ধান জমির পাশেই বই নিয়ে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে নিকিতা। কারণ বরাবরই ক্লাসে ফার্স্ট হয় সে। তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার।

যে পরিবারের ধান কাটার কাজে এসেছেন সেই শেখ বাবলু সাংবাদিকদের জানান, “আমাদের পরিবারে ওঁরা কাজ করতে এসেছেন। তবে আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছি একটি আদিবাসী পরিবারের ছোট মেয়ের চেষ্টা দেখে। আমরা চাই নিকিতার স্বপ্নপূরণ হোক। তাকে দেখে যেন অন্যান্যরাও উৎসাহিত হয়।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *