পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিল এসএসসি ১৮০৬ জন দাগি শিক্ষক!

রাজন্যা নিউজ, কলকাতা

স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) বৃহস্পতিবার প্রকাশ করল অযোগ্য প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রকাশিত এই তালিকায় রয়েছে মোট ১৮০৬ জনের নাম। ৫৪ পাতার এই তালিকায় প্রতিটি প্রার্থীর নাম, রোল নম্বর, বিষয়, বাবার নাম ও জন্ম সাল উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, আদালতের নির্দেশ ছিল, কোনওভাবেই দাগি প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকতে পারবেন না। কলকাতা হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টও একই বার্তা দেয়। আদালত আরও জানায়, স্বচ্ছতার স্বার্থে এসএসসি’কে অযোগ্যদের নাম প্রকাশ করতে হবে।
এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, ‘আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে। কমিশন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। যদি সেটা কোনওভাবে না হয় তাহলে এসএসসি আইনি প্রক্রিয়া মেনে এগোবে।’ পাশাপাশি বিরোধীদের নিশানা করে ব্রাত্য আরও বলেন, বিরোধী হিসেবে দলগুলি চাইবেই, চেষ্টা করবেই যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিয়োগ করতে না পারে। সেটা তাদের কাজ। আমাদের কাজ নিয়োগ করা। আমরা সেটা স্বচ্ছতার সঙ্গেই করব। আমি মনে করি না যে বিচারক ভেদে কোর্ট ভেদে আইন বা বিচার বদলায়।’
এদিকে আগের ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর নতুন পরীক্ষা নেওয়া হলেও, যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে নতুনদেরও পরীক্ষা নেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। পাশাপাশি অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার নিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নতুন পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই।
আদালতের নির্দেশে অযোগ্যদের নাম প্রকাশ হলেও, বিষয়ভিত্তিক কতজন বাদ পড়েছেন তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ হয়নি। অর্থাৎ, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক চলছেই।
আর এসএসসি’র এই নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মূল যুক্তি হলো, যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে নতুনদের একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া, অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া এবং আদালতের নির্দেশের বাইরে গিয়ে ফ্রেশারদের অন্তর্ভুক্ত করা।
পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট এও জানিয়েছিল, শুধু অযোগ্যদের বাদ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নতুন পরীক্ষা হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার পুরনো চাকরিহারাদের সঙ্গে নতুন ফ্রেশারদেরও একসঙ্গে পরীক্ষা নিয়েছে। এখানেই আদালত প্রশ্ন তোলে, এটা কোথাও বলা হয়নি, তাহলে কেন এমন করা হলো। এর পাশাপাশি আদালতের পর্যবেক্ষণ, তারা কখনও বলেনি যে নতুন প্রার্থীদের নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। নির্দেশ ছিল কেবল দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা নেওয়া এবং অযোগ্যদের বাদ দেওয়া। ফলে ফ্রেশারদের অন্তর্ভুক্তি আদালতের নির্দেশের বাইরে গেছে।
এদিকে অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর বোনাস দেওয়ার নিয়মে নতুন পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এতে পুরনো প্রার্থীরা অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন এবং নতুনরা পিছিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা নিয়েও। কারণ, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নেই। যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে নতুনদের পরীক্ষা নেওয়া এবং অতিরিক্ত নম্বরের নিয়ম, এসবই প্রমাণ করছে যে সিস্টেমে স্বচ্ছতা নেই।
এরই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, পুরনোদের সমস্যা রাজ্য সরকারকেই দেখতে হবে। পাশাপাশি তারা এও জানায়, নতুনরা যেন কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হতে হয়, সেটাও আদালত উল্লেখ করতে হবে। এখানে আদালতের মূল বক্তব্য, যোগ্য প্রার্থীদের জন্যই নতুন পরীক্ষা হবে, ফ্রেশারদের অন্তর্ভুক্তি আদালতের নির্দেশের বাইরে। খুব স্পষ্ট ভাষায় বললে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে, যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে নতুনদের পরীক্ষা নেওয়া যা আদালতের নির্দেশের বাইরে গেছে। আর অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার নিয়ম নতুনদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *