ফের জুড়ে যাচ্ছে ৬ সরকারি ব্যাঙ্ক
রাজন্যা নিউজ, নয়াদিল্লি: দেশে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কের সংখ্যা আরও কমতে চলেছে। দেশের প্রথমসারির একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি।
কেন্দ্রীয় সরকার ছোট সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলিকে বৃহত্তর ব্যাঙ্কের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে। এর লক্ষ্য হল একটি বৃহত্তর ব্যাঙ্ক তৈরি করে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ও ক্ষমতা উন্নত করা। কেন্দ্র চায় ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমানো হোক। কিন্তু, সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলি একেকটি শক্তিশালী সত্তা হিসেবে আবির্ভূত হোক, যাতে আর্থিক খাত উন্নত করা যায়, ঋণের আওতা সম্প্রসারিত করা যায় এবং ব্যালেন্স শিট এবং কার্যক্রমও উন্নত করা যায়। এই বিষয়ে, আরও ছয়টি ছোট সরকারি খাতের ব্যাঙ্ক জুড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যাচ্ছে।
সংযুক্তিকরণের তালিকায় কোন কোন ব্যাঙ্ক? সূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইউকো ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র এবং পঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক মিলিয়ে মোট ছয়টি পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ককে এসবিআই, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, পিএনবি, কানাড়া ব্যাঙ্ক, অথবা ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ের সংযুক্তিকরণের জন্য এই ছয়টি ব্যাঙ্কই রাডারে রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এর আগে, নীতি আয়োগের একটি প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছিল যে সরকার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের মতো ছোট ব্যাঙ্কগুলিকে বেসরকারীকরণ বা পুনর্গঠন করবে। জাতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বিশ্বাস করে যে ভারত সরকারের পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি), ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (বিওবি), কানাড়া ব্যাঙ্ক, অথবা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সহ কয়েকটি বৃহৎ পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক ধরে রাখা উচিত। অন্যান্য ছোট পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলি হয় বেসরকারীকরণ বা একীভূতকরণের বিকল্প বেছে নিতে পারে, অথবা সরকারের অংশীদারিত্ব হ্রাস করতে পারে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ককে এসবিআই বা পিএনবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতে পারে। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে পিএনবি বা ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতে পারে। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে জুড়ে দেওয়া হতে পারে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা বা স্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গে। ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্রকে পিএনবি বা ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতে পারে।
দেশে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে এসবিআই স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের (বেঙ্গল সার্কেল) প্রাক্তন ডেপুটি চিফ সেক্রেটারি তথা ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চের মুখপাত্র অশোক মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘একাধিক ব্যাঙ্ক জুড়ে একটি বড় ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই যে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সঙ্কটমুক্ত হবে, তা কিন্তু নয়। এর একটা বড় উদাহরণ হল, ২০০৮ সালে যখন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় সঙ্কট দেখা দেয়, তখন বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক লেহম্যান ব্রাদার্সের পতন ঘটে। সেই সময় অনেক বড় ব্যাঙ্ক সঙ্কটের মুখোমুখি হয় এবং তারপরে বিশ্বব্যাপী তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক ব্যাঙ্ককে সংযুক্তিকরণের পথে এগিয়ে যেতে হয়।’
এর আগে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে, ১০টি সরকারি খাতের ব্যাঙ্ককে চারটি ব্যাঙ্কে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে দেশে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কের সংখ্যা ২০১৭ সালে যা ২৭টি ছিল তা কমে ১২টিতে দাঁড়িয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ বিকানের অ্যান্ড জয়পুর, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ হায়দরাবাদ, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ মাইসোর, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাতিয়ালা, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ট্রাভাঙ্কোর এবং ভারতীয় মহিলা ব্যাঙ্ককে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। দেনা ব্যাঙ্ক এবং বিজয়া ব্যাঙ্ক জুড়ে যায় ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সঙ্গে। সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক জুড়ে যায় কানাড়া ব্যাঙ্কের সঙ্গে। অন্ধ্র ব্যাঙ্ক এবং কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক জুড়ে যায় ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে এবং এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক জুড়ে যায় ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সঙ্গে।

