গুরু অধীরের মাটি আলগা করছে হুমায়ুন

কল্যাণ অধিকারী রাজন্যা নিউজ

বঙ্গ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন একা হুমায়ুন। মমতা, অভিষেক, শুভেন্দু, সুকান্ত, অধীর থাকলেও তাঁদের প্রতি সোশ্যাল আগ্রহ কম। কার্যত সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি চ্যানেল সব জায়গায় একা হুমায়ুন। বাংলা হোক বা অগোছালো হিন্দি বক্তব্য রাখছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাচ্ছেন। ডাইরেক্ট বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে তাঁর আপত্তি নেই! এমনটাও বলছেন। শনিবার তো মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মরাদিঘি এলাকায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিলেন। তিনি যে কথা দিয়ে কথা রাখার লোক বুঝিয়ে দিলেন।
প্রচুর মানুষের জমায়েত হয়েছিল। ব্যবস্থাপনা ছিল এলাহী। রাজ্য তো বটেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিল ধর্মগুরুরা। শাহী বিরিয়ানি-সহ এলাহি আয়োজন রাখা হয়েছিল।

মুর্শিদাবাদ জেলা মানেই কংগ্রেস। আর কংগ্রেস মানেই অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর কথাই ছিল শেষ কথা। কিন্তু বাংলায় কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। অরাজনৈতিক ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে প্রাক্তন সাংসদ হয়ে গেছেন বহরমপুরের অধীর। তারপর হাতছাড়া হয়েছে রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীরের নেতৃত্ব রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করেছেন শুভঙ্কর সরকারকে। এমন একটি সময় সব খুইয়ে মাঝেমধ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতাকে আক্রমণ করা ছাড়া কিছুই করার নেই কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর।

অধীর সেইমতন কর্মসূচি না নেওয়ায় মালদহ, মুর্শিদাবাদ জেলায় মানুষের ক্ষোভ জমছিল। বছর ঘুরলেই বিধানসভার ভোট। এমন একটি সময় গা ঝাড়া দিয়ে প্রকাশ্য হলেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। রাজনৈতিক মহলে চালু কথা, ভোট আসলেই দলবদল করেন হুমায়ুন কবীর। নিজেকে এবার নতুন ছকে সাজানোর চেষ্টা করলেন। বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচি। এক্ষেত্রেও তৃণমূলকে ব্যবহার করলেন। সরকারি টাকায় মন্দির হচ্ছে, অথচ মসজিদ তৈরিতে বাধা দিচ্ছে সরকার। এমন অভিযোগের মধ্যেই বাবরি মসজিদ বানানোর দিনক্ষণ বলে দিলেন। সেইমতন শনিবার প্রচুর মানুষের জমায়েত হয়েছিল বেলডাঙায় মরাদিঘি এলাকায়। শাহী বিরিয়ানি প্রদান সহ ব্যবস্থাপনা ছিল এলাহী। রাজ্য তো বটেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন ধর্মগুরুরা। বহু মানুষ ইট মাথায় নিয়ে পৌঁছেছেন এলাকায়। জাতীয় সড়কে ছিল তীব্র যানজট। মানুষের ভোগান্তি। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক জমি শক্ত করে নিলেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা ও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সঙ্গে কয়েক কদম পিছিয়ে দিলেন গুরু অধীরকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *