আগুনের গ্রাসে বাংলার যুবক গোয়া অগ্নিকাণ্ডে মৃত এক পরিবারের ৪

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, গোয়াn গোয়ার আরপোরা এলাকায় শনিবার রাতের পার্টি মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে। জনপ্রিয় নৈশক্লাব ‘বির্চ বাই রোমিও লেনে’-তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ২৫ জনের। মৃতদের মধ্যে ২০ জনই ক্লাবের কর্মী, বাকি ৫ জন পর্যটক। ঘটনায় দেশ জুড়ে তীব্র ক্ষোভের পর পরই তিন সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করল গোয়া সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই তিন আধিকারিকই ক্লাবটিকে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন ২০২৩ সালে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণে ছাড়, নিরাপত্তা মানদণ্ড ও অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষায় গাফিলতি, অপ্রতুল প্রবেশ ও বহির্গমন পথ থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়ায় সাসপেন্ড করা হয় তিন আধিকারিককে। তারা হলেন. ১) সিদ্ধি তুষার হরলঙ্কর, পঞ্চায়েত পরিচালক, ২) ডাঃ শামিলা মনতেইরো, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সচিব-সদস্য ও ৩) রঘুবীর বাগকর, আরপোরা নাগোয়া গ্রামীণ পঞ্চায়েতের সচিব। এর পাশাপাশি, পঞ্চায়েত প্রধান রোশন রেদকর’কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনিই নৈশক্লাবটির ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করেছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডে সুভাষ ছেত্রী নামে বাংলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে দিল্লির এক পরিবারের চার সদস্যের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন বোন রয়েছেন। এই প্রথম গোয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নাইটক্লাবটিতে মাত্র দুটি প্রবেশপথ ছিল। আগুন লাগার পর পালানোর যথেষ্ট রাস্তা ছিল না। ভিতরে আতশবাজি ফাটানো হচ্ছিল, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের তত্ত্ব গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত অস্বীকার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত স্পষ্ট বলেছেন, ‘যথেষ্ট এক্সিট না থাকার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।’ বিরোধীদের দাবি, ক্লাবটি অবৈধভাবে বর্ধিত করা হয়েছিল। লাইসেন্স পেতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল। অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করে অনুমতি দেওয়া হয়। এই অভিযোগের পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা সাহায্য ঘোষণা করেছে গোয়া সরকার। আর গোয়া পুলিশ ইতিমধ্যেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *