চাপে ছিলেন কাঁপছিল হাত শাহকে কটাক্ষ রাহুলের
রাজন্যা নিউজ, নয়াদিল্লিn লোকসভায় ভোটচুরি প্রসঙ্গ ঘিরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির তুমুল বাকযুদ্ধের রেশ বৃহস্পতিবারও বজায় থাকল। এদিন অধিবেশনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল দাবি করলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভীষণ চাপে ছিলেন, ভয় পাচ্ছিলেন। ওঁর হাতও কাঁপছিল।’
বুধবার লোকসভায় এসআইআর নিয়ে আলোচনার সময় শাহের ভাষণের মাঝেই দাঁড়িয়ে রাহুল ভোটচুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য জানতে চান। তাতে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ বলেন, ‘আপনার কথা মতো আমি বত্তৃ«তা করব না। ধৈর্য্য ধরুন। যখন যেটা বলার, তখনই বলব।’ পরক্ষণেই রাহুলের কটাক্ষ, ‘ঘাবড়ে গিয়েছেন বলেই এমন প্রতিক্রিয়া!’
এর পরই শাহ পাল্টা আক্রমণে নেমে সংসদে নেহরু-গান্ধি পরিবারকে ‘ভোট চোর’ বলে আখ্যা দেন। স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে নেহরুকে কম ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া, ১৯৭৫-এর এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায় অমান্য করে জরুরি অবস্থা জারি, এবং সনিয়া গান্ধির নাগরিকত্ব মামলা, এই তিন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে শাহ বলেন, ‘ওগুলিই আসল ভোটচুরির উদাহরণ।’
বৃহস্পতিবার রাহুল দাবি করেন, শাহ তাঁর প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে পারেননি। বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম আমার সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক। তিনি কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি।’
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। রাহুল গান্ধি লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন কি প্রধানমন্ত্রীর সূচি দেখে ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করছে? কেন নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুললে কমিশন নীরব থাকে? কেন কমিশনকে সিসিটিভি ফুটেজ মাত্র ৪৫ দিন রেখে দিতে বলা হয়েছে? কেন কমিশনারদের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে চেয়েছিলেন রাহুল। রাহুল আরও বলেছিলেন, ‘তিনটি সাংবাদিক বৈঠকে আমি তথ্য দিয়ে দেখেছি কীভাবে কমিশন এবং বিজেপি মিলে ভোট চুরি করছে। আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি, বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি বিতর্ক হোক।’ কিন্তু রাহুল যে-সমস্ত অভিযোগ তুলেছিলেন সেগুলির সরাসরি জবাব দিতে পারেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেগুলি এড়িয়ে বুধবার শাহ বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ২৮টি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সমর্থন পেয়েছিলেন। মাত্র দুটি পেয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নেহরু।’ কিন্তু ইতিহাস বলছে এই তথ্য একেবারেই ঠিক নয়। এ বিষয়ে তখন কোনও ভোটাভুটিই হয়নি। সে-কথা শাহকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাহুল যেভাবে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, তা নিয়ে নতুন করে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে।
এদিকে সংসদ সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশনের আগে নাকি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন শাহ। তাঁর শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০২ ডিগ্রি। ওষুধ খেয়েই তিনি বত্তৃ«তা দেন। তবে এই দাবি সরকারিভাবে নিশ্চিত হয়নি।

