ভবানীপুরে বাদ ৪৪ হাজার, নন্দীগ্রামে ১১ হাজার! ১ কোটি রোহিঙ্গা কি ‘আষাঢ়ে গল্প’!
রাজন্যা নিউজ, কলকাতা এন্যুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এবার লক্ষ্য থাকবে খসড়া ভোটার তালিকার দিকে। কার নাম তালিকায় এলো আর কার নাম বাদ গেল এই নিয়ে চলবে চর্চা। একই সঙ্গে নজর থাকবে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রগুলির দিকে। কোন কেন্দ্র থেকে কত নাম বাদ গেল সেটাও চর্চার বিষয়। সেদিক থেকে দেখলে সবচেয়ে চর্চার কেন্দ্র হল মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবং বিরোধী দলনেতা শুভে¨ু অধিকারীর ন¨ীগ্রাম। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে খসড়া তালিকা থেকে। আর শুভে¨ুর ন¨ীগ্রাম থেকে বাদ যাচ্ছে চারভাগের একভাগ অর্থাৎ ১১ হাজার ভোটার।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এন্যুমারেশন পর্ব শেষে বাংলায় খসড়া তালিকা থেকে মোট নাম বাদ যাচ্ছে ৫৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮৫১ (৭.৫৯ শতাংশ) জনের। যার মধ্যে ভবানীপুরেরই রয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮৭ (২১.৭১ শতাংশ) জন।
এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কারা রয়েছে বাদের খাতায়
মৃত ভোটার ১০ হাজার ৮৯৭ জন (৫.২৮ শতাংশ)
নিখোঁজ ভোটার ১৯ হাজার ৪৭১ জন (৯.৪৪ শতাংশ)
স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ভোটার ১২ হাজার ৫৪৭ জন (৬.০৮ শতাংশ)
ডুপ্লিকেট ১ হাজার ৯৭ জন।
অন্যান্য ৭৭৫ জন।
বৃহস্পতিবার এন্যুমারেশন পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে। তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কাদের নাম বাদ যাচ্ছে, সেটা জানার আগ্রহও রয়েছে অনেকের! কমিশন জানিয়েছে, ১৫৯ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫ জন। যার মধ্যে ফর্ম ডিজিটাইজ হয়েছে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৫০৯ (৭৮.২৯ শতাংশ) জনের।
অন্যদিকে কমিশনের তথ্য বলছে, শুভে¨ুর কেন্দ্রে এঁদের মধ্যে সেল্ফ বা নিজস্ব ম্যাপিং করিয়েছেন ১ লক্ষ ৮ হাজার ৫২৭ জন অর্থাৎ ৩৯.০১ শতাংশ। প্রোজেনি ম্যাপিং করিয়েছেন ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৭৬৩ জন অর্থাৎ ৫৫.৯৯ শতাংশ। অনলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছেন ৬ জন।
এককথায় মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নাম বাদ যাচ্ছে ৪৪ হাজার ৭৮৭ (২১.৭১ শতাংশ) জন। তুল্যমূল্য বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা ভবানীপুরে যে সংখ্যায় নাম বাদ পড়েছে, তার চার ভাগের এক ভাগ নাম বাদ পড়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা নন্দীগ্রামে।
তবে কোথায় গেল এক কোটি রোহিঙ্গা? এতদিনে শুভে¨ু অধিকারীরা যে দাবি করে আসছিলেন তা কি ভুয়ো? এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বাংলায় রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা জানার জন্য। তবে স¨েহ থাকছে, রোহিঙ্গাদের সংখ্যার তথ্য আদৌ প্রকাশ্যে আসে কিনা তা নিয়ে।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকায় কোনও অভিযোগ থাকলে, ত্রুটি থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে। তার ভিত্তিতে হবে শুনানি। তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে কমিশন। তা প্রকাশ করা হবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।
ভোটারদের মোট তিনটি তালিকায় ভাগ করেছে কমিশন নিজস্ব ম্যাপিং, প্রজিনি ম্যাপিং এবং নন-ম্যাপিং। এরা কারা? ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা সেলফ বা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় পড়ছেন। যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না থাকলেও বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা প্রজিনি ম্যাপিং তালিকায়। যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নামও ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত। এই তালিকার সকলকেই কমিশনের তরফে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রে সেল্ফ ম্যাপিং করিয়েছেন ৭৩,৩০৬ জন। প্রোজেনি ম্যাপিং করিয়েছেন ৬৩,৪৫৬ জন। মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে অনলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছেন ১০ জন।
গত ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। কিন্তু শেষে দেখা যায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে মমতা পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দুর কাছে। যা নিয়ে মামলাও হয়। পরে মমতা ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হন। সেই নির্বাচনে মমতার জয়ের ব্যবধান ছিল ৫৮ হাজার ৮৩৫ ভোট।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকায় কোনও অভিযোগ থাকলে, ত্রুটি থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে। তার ভিত্তিতে হবে শুনানি। তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে কমিশন। তা প্রকাশ করা হবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

