ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ বাদ পড়তে পারে ৫৮ লক্ষাধিক
কলকাতা ব্যুরো : মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের তালিকা প্রকাশ ঘিরে কী পরিস্থিতি দেখা দেবে, সোমবার তা ছিল দিনভর জল্পনার বিষয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৭ জনের নাম দ্বিতীয় দফায় এসআইআরের জেরে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। নাম বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা মোট ভোটারের ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
সূত্রের খবর, যে সমস্ত ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়বে, এনিয়ে আপত্তি এবং তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার জন্যে দাবি জানানোর সময়সীমা ধার্য হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাদ পড়া ভোটারদের সম্পর্কে শুনানি এবং পর্যালোচনা চলবে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ইতিমধ্যে এসম্পর্কিত যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন তাতে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ৩১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮১৫ জন নাগরিক শুনানিতে অংশগ্রহণ করবেন। বাংলায় চলা এসআইআরে ইতিমধ্যে অন্তত ১৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটার চিহ্নিত করা হয়েছে যাঁরা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন। এছাড়া এর মধ্যে রয়েছে ভুয়ো এবং মৃত ভোটাররা।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। মঙ্গলবার যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে, তা মিলবে অনলাইন এবং অফলাইনে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইট ত্রত্বi.goড.in অথবা বাংলার মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের ওয়েবসাইট ত্বত্রo.ন্দ্রত্রsন্ঠত্নত্রngত্থl.goড.in-এ ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা দেখা যাবে। এক্ষেত্রে ভোটাররা নিজেদের নাম এবং এপিক কার্ডের নম্বর দিয়ে নাম সার্চ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যদি কোনও কারণে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে ভোটাররা নিজেদের নাম সার্চ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিএলওদের কাছে থাকা ভোটার তালিকার মাধ্যমে নিজেদের নাম খুঁজে নেওয়ার পথ খোলা থাকছে। খসড়া ভোটার তালিকায় প্রত্যেক পোলিং বুথের ভোটারদের নাম বিএলওদের কাছে থাকবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল অ্যাসিস্ট্যান্ট তথা বিএলএদের কাছে থাকা নথিতে দেখা যেতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম খসড়া ভোটার তালিকায় আছে কিনা। সোমবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি বাদ পড়া ভোটারদের নামের তালিকা প্রকাশ করা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে না মেলার ফলে যে সমস্ত ভোটারের নাম বাদ পড়বে, কমিশনের শুনানিতে তাঁরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। নাম বাদ পড়া ভোটারদের কমিশনের শুনানিতে ব্যাখ্যা দিতে হবে, কেন তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এছাড়া ওঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব সম্পর্কে প্রামাণ্য নথি পেশ করতে হবে। এক্ষেত্রে জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, মাধ্যমিক কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা কোনও সংস্থার দেওয়া বাসভবনের শংসাপত্র, জাত পরিচয়ের শংসাপত্র-সহ প্রামাণ্য নথি পেশ করা যাবে।
বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, বাংলার বাসি¨া এক কোটি ভোটারের নাম এসআইআরের দরুণ খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এনিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এও অভিযোগ তোলা হয়, এসআইআরচালুর ফলে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে ইতিমধ্যে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের ভিতর ১৭-১৮জন বিএলও।

