দিল্লিতে জমজমাট মেসি শো, বিশ্বকাপের টিকিট পেলেন রাজপুত্র
মেসির ভারত সফরের শেষ স্টেশন ছিল রাজধানী। এখান থেকেই তিনি উড়ে যাবেন মায়ামিতে। দিল্লির কুয়াশার জন্য বিলম্বিত হয় এলএম ১০-এর ফ্লাইট। নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে তিনি দিল্লিতে পা রাখেন। বিকেলে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স মেসি, দি পল ও সুয়ারেজ যখন অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন তখন খেলা চলছে মিনার্ভা পাঞ্জাবের যুব দল ও সেলিব্রিটি দলের। মেসি উঠতি ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তোলেন, তাদের সঙ্গে পাস-পাস খেলেন।
রপর মঞ্চে একে একে প্রবেশ করলেন অতিথিরা। মেসি-সুয়ারেজ-দি পলদের হাতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি তুলে দিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সই করা ব্যাট। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে মেসি ইভেন্টে উপস্থিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এক মঞ্চে দেখা গেল বাইচুং এবং মেসিকে। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হাতে উদ্বোধন হলো দিল্লিতে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচের টিকিটের। এরপর মাইক গেল মেসির হাতে, সেখানে তিনি বেশি আনন্দের সঙ্গেই জানালেন এখানে এসে তিনি কতটা খুশি, এবার দর্শকদেরই ভালোবাসা তাঁর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।
দিল্লিতেও ক্রিকেটের সঙ্গে মিলে গেল ফুটবল। ভারতে ক্রিকেট কার্যত ধর্মের মতো। ফুটবল নিয়ে উৎসাহ থাকলেও এই দেশের ক্রীড়াভক্তদের মূল আকর্ষণ ক্রিকেটই। সামনের বছর দেশের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ। ভারত গতবারের চ্যাম্পিয়ন। সেই টুর্নামেন্টে ৭ ফেব্রুয়ারি টিম ইন্ডিয়ার প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসি দর্শক হলে মন্দ কী!
হায়দরাবাদ-মুম্বই মাতিয়ে ভারতে মেসির ‘গোট ট্যুরের’ শেষদিকের অংশ দিল্লি। যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। তবে দিল্লি পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয় আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তির। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বাতিল হয়। কিন্তু দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও ধৈর্যচ্যুতি হয়নি ভক্তদের।
এমন মনে রাখার মতো ফ্রেম কলকাতাতেও দেখা যেতে পারত। অত্যুৎসাহী কিছু মানুষের জন্য সেই দৃশ্য দেখা গেল না। উলটে দর্শক অসন্তোষে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হল। মেসি এদিনই ভারত ছাড়বেন। মেসি-মুহূর্ত কিন্তু মনে থেকে যাবে ভক্তদের।

