পরিবারের শেষকৃত্য সেরেই হাউহাউ করে কেঁদে উঠল সঞ্জু

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

ওড়িশা থেকে সোমবার গভীর রাতে উলুবেড়িয়ায় ফেরে দুধকুমারের ছেলে সঞ্জু। তারপর রাতেই দাদু, বাবা-মা ও বোনের শেষকৃত্য সারলেন। মঙ্গলবার সঞ্জু জানান, অল্প সময়ে বাড়ি ফিরতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। ভুল ট্রেনে উঠে পড়া, তবে পুলিশ প্রশাসন পাশে থাকায় বাবা-মা ও পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ঠিকঠাক সম্পূর্ণ করতে পেরেছি। কথাগুলো বলতে বলতেই হাউহাউ করে কাঁদতে থাকল সদ্য পরিবারকে হারানো এক যুবক। এদিন ফরেনসিক টিম এসে পুড়ে যাওয়া ঘরের তথ্য সংগ্রহ করেছে।

রবিবার রাতে জয়পুরের ঝামটিয়া অঞ্চলের সাওড়িয়া গ্রামে মাটির বাড়িতে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় নবম শ্রেণীর ছাত্রী-সহ একই পরিবারের চার জনের। খবর পেয়ে ওড়িশা থেকে বাড়ির পথে রওনা দেয় মৃত দুধকুমার দোলুইয়ের ছেলে সঞ্জু দলুই। ওডিশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করে সঞ্জু। বাড়ির মর্মান্তিক খবর পেয়ে ছুটতে-ছুটতে ট্রেন ধরে। তবে হাওড়ায় আসার বদলে ভুল ট্রেনে উঠে পড়ায় রাতে নামতে হয় খড়গপুর। এ খবর পেয়ে পুলিশের বিশেষ গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয় উলুবেড়িয়া। তারপর গভীর রাত আড়াইটে নাগাদ বাউড়িয়াতে দেহ সৎকার করা হয়। মঙ্গলবার সাওড়িয়া গ্রামে আসে ফরেনসিক টিমের সদস্যরা। খতিয়ে দেখেন সমস্তটা। ছিলেন জয়পুর থানার ওসি-সহ পুলিশ কর্মীরা। সঞ্জুর সঙ্গে দেখা করেন আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। পাশে থাকার বার্তা দেন সুকান্ত।

পড়শিদের কথায়, সঞ্জু বরাবর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছে। পাকা ঘর বানানোর জন্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজে গিয়েছিল ওড়িশায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মিটিয়ে নারিট দিয়ে ফিরেছেন সাওড়িয়া গ্রামে। পুড়ে যাওয়া ঘরে বোনের স্মৃতি খুঁজছিল। বোন শম্পাকে বলেছিল ভালো করে পড়াশোনা করিস। নার্সিং ট্রেনিং শেখাবে, কলেজে পড়াবে। সবটাই শেষ হয়ে গেল। ব্যবহার করা বাইক আর দুটো গরু আর কয়েকটা ছাগল ও মুরগী রয়ে গেল। ওদেরকে আর কে দেখবে? কেই বা খেতে দেবে। সঞ্জু বলেন, মা-বাবা, বোন, দাদু সবাই তো চলে গেল। কাদের জন্য থাকব। এ কষ্ট বলে বোঝান যাবে না। বোন ভালো নাচ-গান করত। ওর জন্য খুব কষ্ট হত। ফোন করলে বলতো দাদা তোর জন্য পায়েস রেঁধে রাখবো। তুই কবে আসবি বল ? সাদা থান পরে পরিবারের শোকে কাঁদতে-কাঁদতে কথাগুলো বলে গেল সঞ্জু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *