গোপনে পারমাণবিক মজুদ বাড়াচ্ছে চিন অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
রাজন্যা নিউজ, ২৪ ডিসেম্বর চিনের পারমাণবিক মজুত নিয়ে নতুন করে খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বেইজিং গোপনে শতাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে থাকতে পারে। যা ২০৩০ সালের মধ্যে হাজার পরমাণু অস্ত্র ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখান করেছে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। চিনের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে পেন্টাগনের এক খসড়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিনের সামরিক বাহিনী দেশটির সর্বশেষ নির্মিত তিনটি সংরক্ষণকেন্দ্রে একশ’র বেশি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম মজুত রেখেছে বলে সন্দেহ করছে পেন্টাগন। পেন্টাগনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং বর্তমানে বিশ্বের অন্য যে কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তুলনায় দ্রুতগতিতে তার অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে।
প্রতিবেদন আরও বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না চিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতৃত্বের উদ্যোগ সত্ত্বেও চিনের ‘কোনও আগ্রহ নেই’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালে চিনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ছিল ছয়শো’র কিছু বেশি। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে তা এক হাজার ছাড়াতে পারে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, রাশিয়ার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে, যার ওয়ারহেডের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৫৯। তার পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৫ হাজার ১৭৭। বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশই দেশ দুটির কাছে রয়েছে।
খসড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান ইস্যুতে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে চিন। প্রয়োজনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরত্বে আঘাত হানার সক্ষমতাও বিবেচনায় আছে। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব দাবি প্রত্যাখান করেছে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনে চিনা দূতাবাস জানায়, দেশটি আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক নীতি অনুসরণ করে এবং ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ নীতিতে অটল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের দাবি নিজেদের পারমাণবিক আধুনিকীকরণ জোরদারের অজুহাত মাত্র। আমরা একই গল্প বহুদিন ধরে শুনে আসছি এবং বারবার বলে আসছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’ চিন ন্যূনতম নিরাপত্তা চাহিদার বাইরে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ায় না বলেও দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিজের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব পালনেরও আহ´ান জানিয়েছে চিন।
লিন জিয়ান বলেন, ‘বৃহৎ পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ একটি পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হল পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিশেষ এবং অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করা।’

