স্বপ্ন পূরণ সাগরবাসীর! গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

কল্যাণ অধিকারী, এডিটর রাজন্যা নিউজ

মঞ্চে মমতা, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করতেই চোখে জল আশা রায়, অর্পিতা সামন্ত, শিখা মেটে, অপর্ণা সাসমলদের। সাগরবাসীর স্বপ্নভঙ্গের কাহিনী নতুন কিছু নয়। বাম আমলে সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ওইটুকুই কাজের কাজ কিছুই এগোয়নি। গঙ্গাসাগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মুড়িগঙ্গা নদীর উপর একটি সেতুর। সেই স্বপ্ন সফল করলেন বাংলার মেয়ে মমতা। সরকারি কর্মসূচির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, “আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে চার লেনের অত্যাধুনিক সেতু তৈরি হবে। প্রায় ৫ কিমি দৈর্ঘ্যের হবে গঙ্গাসাগর সেতু। এর ফলে পুণ্যার্থী থেকে বিভিন্ন কৃষিজাত এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহণের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এ বার সব সাগর এক বার, গঙ্গাসাগর বার বার।”

গঙ্গাসাগরের হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড এর পাশে পাশে মঞ্চ বানানো হয়েছিল। দুপুর দুটো নাগাদ গঙ্গাসাগরে নামে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। তাঁকে স্বাগত জানাতে জনজাতি মেয়েদের নৃত্যের আয়োজন ছিল। উপস্থিত ছিলেন, সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা, মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব মনোজ পন্থ-সহ একাধিক আধিকারিক। মঞ্চে উঠতেই হাজার-হাজার জনতা উল্লাস করে ওঠেন। নতুন বছরের শুভেচ্ছা লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলার মেয়েকে স্বাগত জানালেন। মুখ্যমন্ত্রী হাতজোড় করে নমস্কার জানালেন। এরপর সাগরের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও শুভ সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সাগরবাসী মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা করছিলেন, কখন মুখ্যমন্ত্রী সেতুর শিলান্যাস করবেন। মমতা ঘোষণা করলেন, ১৭০০ কোটি টাকা খরচ করে, চার লেন বিশিষ্ট হবে এই ব্রিজ তৈরি হবে। মোট ব্রিজের দৈর্ঘ্য হবে ৪ কিলোমিটার ৭৫৭ মিটার। হাততালি ও উল্লাসে ফেটে পড়লেন মানুষজন। মনে রাখবেন আপনাদের কথা আমরা ভাবি, আমরা ক্ষমতায় এসে এখানকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। একটা সময় বাংলায় লোডশেডিংয়ের সরকার ছিল, সেই বামেদের আর নেই দরকার। সেই সরকারও আর নেই, আর বাংলায় কখনও লোডশেডিংও হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের সরকারি অনুষ্ঠানে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলাম। যারমধ্যে মুড়িগঙ্গার উপর সেতুর শিলান্যাস। এটি তৈরি হলে কাকদ্বীপের লট-৮ থেকে কচুবেড়িয়া পৌঁছোতে আর ভেসেল বা ফেরির উপর নির্ভর করতে হবে না। আগে বলা হত, সব সাগর বার বার, গঙ্গাসাগর এক বার। এখন মানুষ বলেন, সব সাগর এক বার, গঙ্গাসাগর বার বার। মমতা বিরোধীদের আক্রমণ শানিয়েছেন। বামেদের ঠুকে বলেন, ‘আপনারা বাংলার জন্য ঘেঁচু করেছেন, লবডঙ্কা। এরপর বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ওরা গীতা নিয়ে রাজনীতি করে। মনে রাখবেন, ধর্ম মানে বিদ্বেষ নয়। তোমরা ভোটারদের নাম কাটছ। আমরা বাংলাদেশে আটকে পড়া জেলেদের ছাড়িয়ে আনছি। ওঁরা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলে দিচ্ছে। ওঁরা গান্ধীজির নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। ভোটারদের হেয়ারিং-এর নামে বয়স্কদের ডেকে পাঠাচ্ছে। বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বাদের যে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, কত কষ্ট করে তাঁরা আসছে। এরপর জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে বলেন, ‘মিস্টার ভ্যানিশ কুমার, বাংলায় নো ডিটেনশন সেন্টার স্যার’। আর দুর্যোধন দুংশাসনরা খেয়াল রাখবেন। আপনারা রক্তচক্ষু দেখাবেন আমরা আপনাদের বসন্তের ফাগুন দেখাব। এরপর বলেন, আগামিকাল কোর্ট খুলবে। কোর্ট খুললেই আমরা বিচারের জন্য কোর্টে যাব। এত মানুষের মৃত্যু, এত মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আমি আবেদন করব, কথা বলব। আইনজীবী হিসেবে নয়, আমি যাব একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে। কথা বলার অনুমতি নেব। গ্রাউন্ড লেভেলে কী চলছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করব।’

সুন্দরবনের উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে মমতা বলেন, হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর উপরে সেতু নির্মাণের ফলে বকখালি যাওয়া সহজ হয়েছে। ক্যানিং-১, ক্যানিং-২ ব্লকে মাতলা নদীর উপরে ৬৫ কোটি টাকা খরচ করে আরসিসি সেতু তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনও হয়ে গেছে। সাগরদ্বীপে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর সরকারের আমলে সুন্দরবন পুলিশ জেলা, তিনটে কপ্টার, একাধিক জেটি, নতুন গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানা, কাকদ্বীপ কোস্টাল থানা তৈরি হয়েছে। পর্যটনের উন্নয়নের জন্য ১০০টি ডরমেটরি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে গঙ্গাসাগরে। নাম দিয়েছেন সাগরকন্যা। ২০টি কটেজ তৈরি করা হয়েছে। মমতা জানিয়েছেন, নবান্নের আদলে তার নাম দেওয়া হয়েছে গঙ্গান্ন। তিনি বলেন, আমাদের সরকার কাজ করে দেখায়। আমরা মুখে বলি না, কাজে করি’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *