দিল্লিতে ওয়ার্ল্ড যোগা কাপে উজ্জ্বল বাগনান যোগাচার্য আশ্রম
কল্যাণ অধিকারী, এডিটর রাজন্যা নিউজ
বিশ্বকাপের মঞ্চেও নাম উজ্জ্বল করলেন বাগনান যোগাচার্য আশ্রমের ছেলেমেয়েরা। গত ২৭ ডিসেম্বর দিল্লির গাজীয়াবাদে অনুষ্ঠিত হয় ইউওয়াইএসএফ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫। বিশ্বের ১৪টি দেশ থেকে প্রায় ৩০০ জন যোগা ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে যোগাচার্য আশ্রমের থেকে পাঁচজন হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন। জিতেছেন স্কুটি। ১১-১২ বছর বালিকা বিভাগে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জিতে নিলেন দিন দর্পণ প্রত্রিকার সাংবাদিক কল্যাণ অধিকারীর কন্যা সন্তান তমসা অধিকারী।
ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, ভুটান, নেপাল, মায়নমার, গ্রেট ব্রিটেন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, পর্তুগাল ও ম্যাকাও-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিযোগীদের নিয়ে প্রায় তিনশো জন যোগ প্রতিযোগী এই বিশ্বমঞ্চে অংশ নেন। প্রতিযোগিতার ফলাফলে বাগনান যোগাচার্য আশ্রমের ছাত্র-ছাত্রীরা নজর কেড়েছে। একের পর এক স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে। এবং পাঁচজন হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন। পাঁচটি স্কুটি পেয়েছেন। আচার্য প্রদীপ গুরিয়া প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। এই কারণেই এই অভাবনীয় সাফল্য বলছেন অভিভাবকেরা।
বিগত পাঁচ বছর ধরে যোগা শিখছে তমসা। পড়াশোনার পাশাপাশি যোগার প্রতি তাঁর বরাবরের আগ্রহ। আমতার আইডিয়াল পাবলিক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা পেশায় সাংবাদিক। মা গেস্ট শিক্ষক। জয়পুর থানার ধাঁইপুর গ্রামে বসবাস করেন। ইতিপূর্বে জেলাস্তর ও শিলিগুড়িতে রাজ্যস্তরের যোগা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন ও পুরস্কার জয় করেছে। এবার সরাসরি দিল্লিতে বিশ্বকাপ। তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জিতে নিলেন। এই সাফল্যের জন্য প্রশিক্ষকদের সহযোগিতার কারণে বলে জানান এই কৃতী কন্যা। যোগার পাশাপাশি তিন বছর ধরে ভারতনাট্যম শিখছে হাওড়ায়।
তমসার যোগার ট্রেনার প্রদীপ গুড়িয়া বলেন, তমসার মধ্যে লড়াই দেবার ক্ষমতা রয়েছে। তাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছে। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী ওদের সেরা দেবার চেষ্টা করে গিয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে অধ্যাবসায়। এখন তো বাচ্চাদের মধ্যে মনঃসংযোগের অভাব একটা সাধারণ সমস্যা। ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে পা মেলাতে গিয়ে কোনও কাজই মন দিয়ে করার অভ্যেস বাচ্চাদের মধ্যে থেকে যেন চলে যাচ্ছে। কিন্তু মনঃসংযোদ করতে না পারলে পড়াশোনা থেকে খেলাধুলো, কোনওটাই ভালো ভাবে করা যাবে না। এই সমস্যার সমাধান করতে ছোট থেকে বাচ্চাদের যোগাসন ও প্রাণায়ম করা অত্যন্ত জরুরি।

