মমতাকে লালু-কেজরিওয়াল-হেমন্ত ভাবলে ভুল করবে এজেন্সি!
কল্যাণ অধিকারী ও ব্যুরো রিপোর্ট
নতুন বছরের এখনও দু সপ্তাহ কাটেনি। এরমধ্যেই মমতাকে পথে নামিয়েছে ইডি। এই নিয়েই রাজনৈতিক চর্চা–তরজা চলছে। সামনেই বিধানসভা ভোট। তৃণমূল-বিজেপি, সিপিএম-কংগ্রেস যে যার মতন রাজনৈতিক কর্মসূচির আলাপ-আলোচনা করছেন। এরমধ্যেই আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি। তারপর থেকেই কার্যত রণংদেহী মূর্তিতে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে। অনেকে এও বলছেন, বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন যেভাবে দেখা যেত, ঠিক তেমনি। অর্থাৎ ভোটের আগে মমতার পছন্দের রাজপথে নামিয়ে ব্যাকফুটে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। এসব নিয়েই তিলোত্তমায় চড়ছে রাজনীতির পারদ।
২০২০ সালে শুরু হওয়া কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরকে ঘন্টার পর ঘন্টা জেরা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মাঝে বেশ কয়েকবছর ঠাণ্ডা ঘরে চলে গিয়েছিল। তারপর হঠাত করেই বিধানসভা ভোটের মুখে তল্লাশি অভিযান ঘিরে দেশজুড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইডি। কেন এত বছর চুপ ছিল? ভোটের মুখ তদন্তে জোয়ার আসল কীভাবে? তবে সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছে মমতার পথে নামা দেখে। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থা ইস্যুতে পথে নেমেছিল মমতা। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন অভিষেক। তবে সবথেকে চমক দিয়েছিলেন ২০২৩ সালে। দেশের পদকজয়ীরা রাস্তায় বসে আন্দোলন করছে, দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের সমর্থনে রাজপথে নামেন মমতা।
আবারও এদিন রাস্তায় নামলেন মমতা।
এদিন যাদবপুর থেকে হাজরা-চেনা পথে মিছিলে হেঁটে মমতা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘অতি সক্রিয়তা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন। মমতার কথায়, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তাই তাঁর মতে ইডির এই হানা ‘অপরাধ’। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আইপ্যাক শুধু বেসরকারি সংস্থা নয়, সর্বভারতীয় তৃণমূলের ‘অথরাইজ়ড টিম’। তাঁর কথায়, ‘‘দফতর থেকে সব কাগজ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এরই প্রতিবাদ জানাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চেনা রাজপথে তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে ভোটের বাজারে নতুন ইস্যু তুলে ধরলেন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, মমতাকে লালু-কেজরিওয়াল-হেমন্ত ভাবলে ভুল করবে বিজেপি। এখনও একাই একশো।

