ভিড়ে ব্রহ্মমুহূর্তের আগেই শাহিস্নান সাঙ্গ লাখো পূর্ণার্থীর
কল্যাণ অধিকারী, এডিটর রাজন্যা নিউজ
বিকেল তখন গড়িয়েছে সূর্যের আলো ঢলেছে মুড়িগঙ্গায়। একের পর এক লঞ্চ ভর্তি পূর্ণার্থীরা পৌছাচ্ছেন কচুবেড়িয়া। একি চিত্র সাগর বাসস্ট্যান্ডে। মানুষের লম্বা লাইন কপিলমুনি মন্দির অভিমুখে। সবে তো সোমবার। মকর সংক্রান্তির শাহি স্নান ১৪ তারিখ তার আগেই পূর্ণার্থীর ঢেউ আছড়ে পড়ছে সাগর তটে। সন্ধের সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানালেন বিকাল তিন টা পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক পূর্ণার্থীরা পবিত্র ভূমি গঙ্গাসাগরে এসেছেন। স্নান সেরে ফিরেও যাচ্ছেন।
কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও মুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ও ভেসেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে তৎপর প্রশাসন। মেলায় আগত পূর্ণার্থীদের জন্য ২১টি জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৩ টি বার্জ, ৪৫টি ভেসেল ও ১২০টি লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুয়াশা মোকাবিলায় অত্যাধুনিক ফগ লাইটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুড়িগঙ্গা নদীতে ইলেকট্রিক টাওয়ারে প্রায় ছশোটি ফগ লাইট, লেজ়ার লাইট-সহ পাঁচ রকমের লাইট লাগানো হয়েছে। ৬৯৮ টি ড্রপগেটের মাধ্যমে ভীড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে ৫৬ কিমি দীর্ঘ ব্যারিকেড, ৪২ টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রে, বিশেষ দিক নির্দেশকারী চিহ্ন এবং বিভিন্ন রঙের আলোয় পথগুলিকে আলোকিত করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ২জন অসুস্থ তীর্থযাত্রীকে এয়ার লিফটের মাধ্যমে কলকাতার এম.আর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। একজন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সন্তলাল বয়স ৬৪। এবং অন্যজন হরিয়ানার বাসিন্দা বিমলাদেবী, বয়স ৭৭। পাশাপাশি ৮৪ জন তীর্থযাত্রীদের প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ৮০ জন তীর্থযাত্রীকে তাদের পরিজনদের খুঁজে পেতে সমর্থ হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, গঙ্গাসাগর মেলায় মুড়িগঙ্গা নদী পারাপারের ক্ষেত্রে এ বারও ইসরোর তৈরি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রত্যেকটি ভেসেল এবং বার্জে একটি করে ইসরোর বিশেষ প্রযুক্তির ডিভাইস লাগানো হয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে সেই ডিভাইসকে কাজে লাগিয়ে ভেসেল ও বার্জের লোকেশন বুঝে অন্ধকারে বা কুয়াশার মধ্যে সারেঙ সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছেন। নদীর জলের নাব্যতাও জানতে পারছেন তাঁরা। কন্ট্রোল রুম থেকে সারেঙদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ফোনের ব্যবহার করা হচ্ছে। সাগর তটে ১৩ই জানুয়ারি পর্যন্ত মহাসাগর আরতির আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকের বোলে, শঙ্খের পবিত্র ধ্বনিতে এবং পুরোহিতদের পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মহাসাগর আরোতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পুলক রায়, বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং হাজার হাজার ভক্ত সমুদ্রতটে আরতি দর্শন করেন।
মন্ত্রী পুলক রায় বলেন, বছরের বাকি সময় শান্ত থাকা এই দ্বীপ মেলা চলাকালীন রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত ‘মিনি-ইন্ডিয়া’-তে, যেখানে নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও অঞ্চলের মানুষ এক অভিন্ন আধ্যাত্মিক লক্ষ্যে একত্রিত হন। সবটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। তিনি এতটাই সুন্দর ব্যবস্থাপনা করেন, কোন মানুষের সমস্যায় পড়তে হয় না। পূর্ণার্থীদের সুরক্ষার স্বার্থের ১৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করেছেন। এছাড়া দেশের মানুষের কাছে গঙ্গাসাগরকে আরও কাছের করে দিতে ১৭০০ কোটি টাকার মুড়ি গঙ্গা নদীর উপর গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেছেন। এছাড়া গঙ্গাসাগরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সাগর কন্যারও উদ্বোধন করেছেন তিনি।

