বিমান ভেঙে মৃত্যু অজিত পাওয়ারের তদন্ত দাবি মমতার

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো মুম্বই:

ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা দেওয়া তাঁর ব্যক্তিগত বিমানটি ভেঙে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। অজিত পাওয়ার ছাড়াও বিমানে থাকা আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোক প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রী। শোকপ্রকাশের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব¨্যােপাধ্যায়। বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজুটি জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন অজিত পাওয়ার। এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন মমতা। বুধবার মমতা বলেন, ‘এই খবরে আমি স্তম্ভিত এবং মর্মাহত। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে দেশের জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে যায়। সমাজ মাধ্যমে একটি সূত্রে জানতে পেরেছিলাম, বিরোধী কোনও নেতা বলেছিলেন বিজেপি জোট ছাড়তে চেয়েছিলেন অজিত পাওয়ার।’ সেই সূত্রে ঘটনাটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উপরই আস্থা রেখে তার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।
ডিজিসিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ বারামতির কাছাকাছি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, গন্তব্যের কাছে পৌঁছনোর পর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। জরুরি অবতরণের চেষ্টা করা হলেও বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। বিমানটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
মঙ্গলবার মুম্বইয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার। বৈঠকের পর বুধবার বারামতিতে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেই উদ্দেশ্যেই সকালে ব্যক্তিগত বিমানে যাত্রা শুরু করেন তিনি। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় অজিত পাওয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পরে ডিজিসিএ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে ছিলেন দুই জন বিমানকর্মী এবং অজিত পাওয়ারের সঙ্গে থাকা আরও দুই জন আধিকারিক। পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। দীর্ঘদিন ধরে বারামতি থেকেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিধায়ক, সাংসদ এবং পরবর্তী সময়ে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন ওই কেন্দ্র থেকেই। নিজের কেন্দ্রের দিকেই যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে শোকপ্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দলের নেতা-নেত্রীরা। শরদ পাওয়ার পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত বারামতির উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে ফোনে কথা বলে শোকপ্রকাশ করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
ডিজিসিএ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
তবে ডিজিসিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানটি প্রথমবার অবতরণে ব্যর্থ হওয়ার পর আকাশে চক্কর কেটে ফের নামার চেষ্টা করে। কিন্তু তখনই তাতে আগুন ধরে যায় এবং বিমানটি ভেঙে পড়ে। জানা গিয়েছে প্রথমে পাইলট রানওয়ে দেখতে পাননি। পরে অবশ্য দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *