তিন আইএএস বদলি নবান্নের চালে ফাঁপড়ে কমিশন
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, কলকাতা
পাঁচ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে শুরু হল নতুন টানাপোড়েন। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন। ওই তালিকায় রয়েছেন ১৫ জন আইএএস ও ১০ জন আইপিএস অফিসার।
এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনার নাম থাকতেই আপত্তি তোলে রাজ্য সরকার। নবান্নের যুক্তি, ভোটের মুখে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে পাঠানো হলে আইনশৃঙ্খলা-সহ প্রশাসনিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেই কারণেই স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মোট ৯ জন অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠালো নবান্ন।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৯ জনের মধ্যে কয়েক জন সচিব স্তরের অফিসারও রয়েছেন। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে আরও ৯ জন আধিকারিকের নাম কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক কাজ নির্বিঘ্নে চালানো যায়।
এদিকে, কমিশনের মনোনীত তালিকায় থাকা দুই আইপিএস অফিসার নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সমস্যার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁরা হলেন ঋষীকেশ মিনা ও ভরতলাল মিনা।
তিন জন আইএএস আধিকারিকের বদলি বাতিল সংক্রান্ত যে নির্দেশ নির্বাচন কমিশন দিয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে নবান্ন থেকে সেই মর্মে কমিশনকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে পর্যবেক্ষক হিসাবে ওই তিন আধিকারিককে নিয়োগ করেছিল কমিশন। অভিযোগ, তার পর কমিশনের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের অন্য দায়িত্ব দেয় রাজ্য।
এসআইআর-এ যুক্ত তিন আধিকারিককে কেন বদলি করা হয়েছে সেই প্রশ্ন তুলে দু’দিন আগেই নবান্নে কড়া চিঠি পাঠিয়ে উত্তর চেয়েছিল কমিশন। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাজ্যের সিইও-কে সেই চিঠিরই জবাব দিয়েছে রাজ্য।
সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে রাজ্য লিখেছে, ‘যেহেতু ওই তিন অফিসার এসআইআর-এর কাজ করছেন, রোল অবজার্ভার হয়েছেন, তাই তাঁদের কাজের চাপ কমাতেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর ঠিক সেই কারণেই তাঁদের কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যাতে চাপ না বাড়ে।’ সূত্রের খবর চিঠিতে এও লেখা হয়েছে, কমিশন যেন রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে মান্যতা দেয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের প্রশাসনিক টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে যে রাজ্যে ভোট হতে চলেছে, সেই রাজ্যেরই স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম কেন্দ্রীয় অবজারভার তালিকায় থাকা নজিরবিহীন বলেই মত বিশ্লেষকদের। সেই কারণেই রাজ্যের তরফে অব্যাহতির আবেদনকে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় অবজারভার নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অন্তত পাঁচবার অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও সাড়া না পাওয়ায় কমিশন নিজেই অবজারভারদের তালিকা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করে। পাশাপাশি, এই নির্দেশ কার্যকর করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিস সার্ভ করার কথাও জানানো হয়েছে, ই-মেল, সরাসরি যোগাযোগ বা উপলব্ধ যে কোনও মাধ্যমে নোটিস পৌঁছে দিয়ে আধিকারিকের স্বীকৃতিসহ তা গ্রহণ করাতে হবে।
তবে কমিশনের নির্দেশ জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নের পাল্টা চিঠি পৌঁছনোয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ফের প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার, নবান্নের আবেদন ও বিকল্প প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং শেষ পর্যন্ত কারা কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে থাকেন।
