‘বাসিন্দা সার্টিফিকেট’ মান্যতা দিল কমিশন মমতার চাপে নতি স্বীকার
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো নয়াদিল্লি
মুখ্যমন্ত্রী মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে শেষ পর্যন্ত স্থায়ী বাসিন্দা সার্টিফিকেটকে মান্যতা নিতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি লিখে সেকথা জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের অফিস।
শনিবার পাঠানো ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি হওয়া এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বৈধ যোগ্যতার নথির অন্তর্ভুক্ত। তবে সেই শংসাপত্র অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং নির্দিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা ইস্যু হতে হবে।
চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র ইস্যু করা হয় রাজ্য সরকারের ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বরের নির্দেশিকা এবং তার পরবর্তী সংশোধনী অনুযায়ী। সেই নিয়ম মেনে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক অথবা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর, এই কর্তৃপক্ষের দ্বারা জারি শংসাপত্রই কেবল গ্রহণযোগ্য হবে। প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা ইআরও ও এআরও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেবলমাত্র এই ধরনের বৈধ শংসাপত্রই গ্রহণ করতে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিকের নজরে আনতে হবে এবং কঠোরভাবে তা কার্যকর করতে হবে। অর্থাৎ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা বা ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকছে না।
শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যেই বাংলা জুড়ে চলছে এসআইআর পর্ব। যা নিয়ে মানুষজনকে চরম হেনস্থা এবং হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিএলও থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে এবং চাপে মারা গিয়েছেন। এই আবহে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সওয়াল করেছিলেন। সেখানে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা বাসি¨া শংসাপত্র কেন মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। এবার সেই বাসি¨া শংসাপত্রকেই মান্যতা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর তার ফলে শুনানির শেষ দিনে নৈতিক জয় দেখছে তৃণমূল।
এদিকে শনিবার রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে শুনানির দিন বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব যায়। সেই প্রস্তাবে এখনও কোনও সাড়া না দিলেও বাসি¨া শংসাপত্রকে গ্রহণযোগ্য বলে নয়াদিল্লি থেকে জানিয়ে দেওয়া হল বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে। তাও শুনানির শেষ দিনে এই কথা জানানো হয়েছে। আসলে এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি রয়ে গিয়েছে। তাতেই প্রশ্ন উঠেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে তো? পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে বাড়তে পারে শুনানির দিন। তার মধ্যেই বাসি¨া শংসাপত্রকে মান্যতা দিতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, এসআইআর নিয়ে এখন চাপে পড়ে গিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার ফলে প্রথমে যা মেনে নেওয়া হবে না বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল সেটাকেই পরে মান্যতা দিতে হয়েছে। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও প্রথমে মান্যতা পায়নি। পরে তা মান্যতা দিতে হয়েছে। আবার বাসি¨া শংসাপত্রের ক্ষেত্রেও তাই হল। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি হওয়া এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বৈধ যোগ্যতার নথির অন্তর্ভুক্ত। এই শংসাপত্র অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং নির্দিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা ইস্যু হতে হবে।
৭ তারিখ পর্যন্ত শুনানি পর্বের সময়সীমা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই বাসি¨া শংসাপত্রকে মান্যতা দেওয়ায় শেষ সময়ও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী সোমবার আবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে। তার আগে এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

