বাংলায় এসে বিহারের ছেলে ঝালমুড়ি বিক্রি করছে, কটাক্ষ অভিষেকের

কল্যাণ অধিকারী, এডিটর রাজন্যা নিউজ

ভোটের বাংলায় দ্বিতীয় দফার যুদ্ধের আগে সম্মুখসমরে অভিশেক-অমিত শাহ। শুক্রবার দুপুরে ডোমজুড়ে নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, “তৃণমূল প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে। ১০ দিন পর ফল বেরোলে মিলিয়ে নেবেন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলায় নাকি ভোট কেটে ক্ষমতায় আসবে। বৃহস্পতিতে প্রথম দফায় ভোট হয়ে গিয়েছে। বিজেপির ছটফটানি দেখতে পাচ্ছেন ! জনতার উদ্দেশ্যে পুনরায় বলেন, ছটফটানি দেখতে পাচ্ছেন ? কি মনে হচ্ছে প্রথম দফায় কি হয়েছে ? আমি রাজনৈতিক ভবিষৎবাণী করি না। কিন্তু যখন করি মেলে। আপনারা দেখেছেন, একুশেও মিলেছে, চব্বিশেও মিলেছে, ছাব্বিশেও মিলবে। আমি আপনাদের বলে দিয়ে যাচ্ছি, তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দফায় সেঞ্চুরি পার করে গিয়েছে। আর দশদিন মিলিয়ে নেবেন। যারা এখন ফোন করে বিভিন্ন সাংবাদিকদের বলছে, আরে হাম লোগো কা খবর চালাও, ইয়ে বোলো, উ বলো। যারা বাংলায় এসে বলেছিল তেইশ তারিখ বাঙালিকে ঘরে ঢুকিয়ে দেব, উনত্রিশ তারিখ ঘরে ঢুকিয়ে দেব ! বাংলার মাটিতে আমাদের এলাকায়, যেটা আমাদের জন্মভূমি, আমদের কর্মভূমি, আমাদের বেড়ে ওঠা, সংসার করছি, সেই মাটিতে গুজরাটের গন্ডারা এসে বলছে, উলটা করকে লটকা দেগা! আমি খালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলাম গরম পড়ছে, জল বেশি করে খান। আর আপনার যদি সৎ সাহস থাকে। চার তারিখ বাংলায় থাকবেন, বেলা বারোটার পর দেখা হবে।”

খালি নির্বাচনের সময় কেন, সারা বছর বাংলায় আসুন। বাংলায় এসে ফুচকা খান, ঝালমুড়ি খান, কচুড়ি খান, জিলিপি খান। কোন অসুবিধা নেই। বাংলাটা কত সুন্দর, যদি প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে-ঘুরে না দেখাত, দেশের মানুষ জানতে পারত? বুঝতে পারত ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ট্যুরিজমের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নরেন্দ্র মোদী’! মোদির গঙ্গায় নৌকা বিহার ও ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “আজকে এইভাবে প্রচার না হতো, বাংলার গঙ্গা কত সুন্দর, ঝাড়গ্রামের রাস্তা কত সুন্দর, যেখানে মুড়ি খাচ্ছেন সেখানের রাস্তাটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা, ফুটপাতটা ঝাড়গ্রাম মিউনিসিপালিটির তৈরি করা। যে ছেলেটা মুড়ি বিক্রি করছে সে বলছে আমার বাড়ি বিহারে। বিহারে নরেন্দ্র মোদির ডবল ইঞ্জিন সরকার। আর পেটের দায়ে বাংলায় এসে মুড়ি বিক্রি করছে। এদের ঢপের চপ এরাই উন্মোচন করে দিচ্ছে। আমাদের কিছুই করতে হচ্ছে না।”

এখানেই শেষ নয়, উন্নয়নে গুজরাট বনাম বাংলার প্রসঙ্গে টেনে, তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের গলায় এদিন ফের শোনা গিয়েছে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব। বিজেপি নেতাদের ‘গুজরাটের গুন্ডা’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। মানুষ ব্যালটে জবাব দিচ্ছে। অভিষেক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই কর্মীদের চাঙ্গা করে বলেন, বাকি পর্বগুলোতেও তৃণমূলের এই জয়রথ বজায় থাকবে। আপনারা উন্নয়ন চান, জগতবল্লভপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কি কি করেছে তার রিপর্ট কার্ড তুলে ধরেন। আমরা জানি মানুষের পাশে থাকতে। ওঁরা ভোটের সময় আসে। তারপর ভোট মিটোলেই পালিয়ে যাবে। ওঁরা তো ভোট পাখি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কদিন ধরেই বলে আসছেন, ঝাড়গ্রামে ২০১১ সালের আগে মানুষ ১০টার পরে বেরোতেন না। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, এটাই মমতা সরকারের উন্নয়ন। পাহাড়ের প্রসঙ্গ নিয়েও অভিষেক দাবি করে আসছেন, ‘যে পাহাড়ে নয়ের দশকের পরে কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যেতে পারতেন না, সেখানে অমিত শাহ এসে মিটিং করেছেন।

দ্বিতীয় দফায় মোট ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোট রয়েছে আগামী ২৯ এপ্রিল। এ দিন হাওড়ার ডোমজুড়ে নিলাঞ্জনা পার্কের কাছে তৃণমূল প্রার্থী সুবীর চট্টোপাধ্যায় এবং ডোমজুড় আসনের প্রার্থী তাপস মাইতির সমর্থনে প্রচার আসেন অভিষেক। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “আমি রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করি না, যখন করি, তখন মেলে। আমি বলে দিয়ে যাচ্ছি, আপনারা দেখেছেন, একুশেও মিলেছে, চব্বিশেও মিলেছে, ছাব্বিশেও মিলবে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি পার করে গিয়েছে। মিলিয়ে নেবেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *