গঙ্গাসাগরে মকর স্নানে জনজোয়ার মন্ত্রী জানালেন ১ কোটি ৩০ লাখ

কল্যাণ অধিকারী এডিটর রাজন্যা নিউজ

গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থল সাগরের পুব আকাশে সূর্য তখন সবে দেখে দিয়েছে। সাগরের নতুন ঘাট ১ এবং ১-এ আর্য ও অনার্য সভ্যতার ঢল নেমেছে। যতদূর চোখ যায় হাজারো মানুষের ভিড়। কনকনে ঠান্ডায় সাগরে ডুব দিয়ে উঠে এসেই গরুর লেজ ধরে বৈতরণী পার হচ্ছেন দেহাতি মানুষজন। মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথি শুরু হয়েছে বুধবার দুপুর থেকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত এই শাহি সময়ে স্নান করতে উপচে পড়েছিল ভিড়। গঙ্গাসাগর মেলার দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি পুণ্যস্নানও সেরেছেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী-বিধায়ক, আমলা। সুজিত বসু স্নানের আগে ধ্যান করে সাগরে ডুব দেন। তারপর কপিল মুনির মন্দিরে প্রণাম সেরে পুজো দিয়েছেন। মন্ত্রী পুলক রায় তিনিও সাগরে স্নান সেরে পুজো দিয়েছেন।

কুম্ভ মেলা না থাকায় ভিড়ের আঁচ আগেই করেছিল প্রশাসন। সেইমতন ব্যবস্থাপনাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভিড়ের বহর যে এতটা আছড়ে পড়বে বোঝেননি মেলায় দীর্ঘ দুদশক ধরে দোকান করা অভিমুন্য দেয়াটি। তাঁর শাঁখের দোকানের উপর উঠে পড়েছেন মানুষজন। এত মানুষজন ২ নম্বর গেট দিয়ে এক টাইমে পাশ করানো হয়েছে এমনটা করানো ঠিক হয়নি। যেকোন মুহুর্তে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারতো। তবে পুলিশ দ্রুত বিষয়টি সামলে নেন। গঙ্গাসাগর মেলায় এ বছর রেকর্ড সংখ্যক মানুষের ভিড় হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালের সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানালেন, এক কোটি ত্রিশ লক্ষ মানুষ এসেছেন গঙ্গাসাগর মেলায়। মেলাতে দেশ-বিদেশ তথা রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যায় মানুষ এসেছিল। সুন্দরবন বিষয়ক বিভাগের মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এত সুন্দর ব্যবস্থাপনা থাকার কারণে দুর্ঘটনামুক্ত মেলা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

অরূপ বিশ্বাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি মুহূর্তে নজরদারী এবং তাঁর নির্দেশ অনুসারে মন্ত্রীগন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্যই এখন পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলাকে অতি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে। সাগরসঙ্গমে পুণ্যস্নানে স্মৃতি অক্ষয় করে রাখতে প্রশাসনের এক অনন্য প্রয়াস ছিল বন্ধন ফটো বুথ, যার মাধ্যমে প্রায় ১১ লক্ষ তীর্থযাত্রী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশাসনের শুভেচ্ছাবার্তা ও নিজের ছবি সম্বলিত শংসাপত্র পেয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ৪৫৬ টি পকেটমারীর ঘটনা ঘটেছে যার ৪৩৮ টি ক্ষেত্রে খোয়া যাওয়া বস্তু উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরৎ দেওয়া হয়েছে ও ৮৯৫ জনকে বিভিন্ন অপরাধমূলক জনিত কারনে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৬৬৩২ জন তীর্থযাত্রী তাদের আত্মীয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, পুলিশ প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৎপরতায় ৬৬২৭ জনকে তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত আগত তীর্থযাত্রীদের মধ্যে সাগরে ২ জনের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার আসামের মিঠু মন্ডল, বয়স-৫১, এবং বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয়েছে মৃত্যুঞ্জয় কুমার সিং, বয়স-৬১, বাড়ি বিহার রাজ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *