‘এক দেশ এক ভোট’ রুখতে বিজেপিকে আনম্যাপ করুন চা বাগানে সোচ্চার অভিষেক
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার শনিবার তৃণমূলের হেরে যাওয়া আসন আলিপুরদুয়ারে ‘রণ সঙ্কল্প সভা’ করেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক বছরেই জননেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন অভিষেক। এবারের ‘রণ সঙ্কল্প সভা’-ও ঠিক তারই একটি নিদর্শন।
চলতি বছরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। উত্তরবঙ্গে এবার ভাল ফলের জন্য আরও জোর দিচ্ছে তৃণমূল। শনিবার আলিপুরদুয়ারে গিয়ে আসন্ন ভোটে বিজেপিকে আনম্যাপ করে দেওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এও জানিয়ে দিলেন, এক দেশ এক ভোট-এর যে ‘চক্রান্ত’ করা হচ্ছে তা তিনি হতে দেবেন না মানে দেবেনই না।
চা-বাগান শ্রমিকদের নিয়ে জনসভায় অভিষেক বললেন, আসন্ন নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। অভিষেকের কথায়, এ বার পাঁচে পাঁচ আসন জয়ের লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পুরোপুরি ‘আনম্যাপ’ করে দিতে হবে। তাঁর দাবি, এ বার আলিপুরদুয়ারের পক্ষ থেকে প্রতিদান দেওয়ার সময় এসেছে।
অভিষেকের কথায়, বিজেপি এখন এসআইআর করে আপনার ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। কাল মানুষ যাতে বাড়ি থেকে বেরোতে না পারেন, তারও ব্যবস্থা করবে। এদের ছেড়ে দিলে চলবে না। বিজেপি এখন এক দেশ এক ভোটের দিকে এগোচ্ছে। তখন ভোটারদের আর কিছু বলার থাকবে না। অভিষেক জানান, তিনি কোনও ভাবে এক দেশ এক ভোট করতে দেবেন না।
বস্তুত, বিরোধীদের আপত্তির মাঝেই ‘২৪ সালের ডিসেম্বরে লোকসভায় ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত বিল পেশ করেছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল এ সংক্রান্ত ১২৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল সংসদের নিম্নকক্ষে পেশ করেন। এর পরে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল জোড়া বিল নিয়ে ডিভিশনের দাবি তোলে। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় বিধি মেনে কোনও বিল নিয়ে বিতর্কের আগে ভোটাভুটি করতে হয়।
সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ, লোকসভায় ৩০৭ এবং রাজ্যসভায় ১৫৮, যা এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে চলছে।
অভিষেক বলেন, এই বিজেপিকে আটকাতে আলিপুরদুয়ারের সাড়ে চারশোটি বুথের প্রতিটিতেই তৃণমূলকে জয়ী করতেই হবে। তবেই বিজেপিকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, বিজেপি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
এদিন শুধু বক্তব্য রেখে মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পথে হাঁটলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে তিনি সরাসরি জনতার কথাই শুনতে চাইলেন। সভাস্থলেই উপস্থিত মানুষদের কাছ থেকে লিখিত আকারে অভিযোগ ও সমস্যার কথা নেওয়া হয়। সেই কাগজ হাতে নিয়ে একে একে পড়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি।
অভিষেক স্পষ্ট করে জানান, একতরফা বত্তৃ«তায় তিনি বিশ্বাসী নন। সভা থেকে তিনি বলেন, মানুষ প্রশ্ন তুলবেন, আর তিনি সীমিত সময়ের মধ্যেই সেই সমস্যাগুলির সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। জনসংযোগের এই নতুন ধরনেই সভায় উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি।
বিজেপির সাংসদদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা। সভা থেকে তিনি বলেন, বিজেপির সাংসদ আর সাপের মধ্যে কোনও তফাত নেই। সাপ যেমন পোষ মানে না, তেমনই বিজেপির প্রতিনিধিরাও মানুষের উপকার না করে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিই করে। তাঁর বক্তব্য, যতই যত্ন করা হোক না কেন, তারা বিশ্বাসঘাতকতাই করবে।
এ প্রসঙ্গে ভোটারদের সতর্ক করে তিনি আবেদন জানান, এ বার যেন ভুল করে এমন কাউকে সুযোগ না দেওয়া হয়। বরং তৃণমূলকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ´ান জানান তিনি। পাশাপাশি নিজের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরে বলেন, যদি তৃণমূল মানুষের জন্য কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তবে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ চাইলে তাঁদের সরিয়ে দিতে পারেন।

