ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের টার্গেটে আরও ৫ দেশ

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, ৬ জানুয়ারি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয়তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি নিজের নতুন দর্শন ‘ডনরো ডকট্রিন’ ঘোষণা করেছেন, যার লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য নিশ্চিত করা। এই নীতির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পর এখন বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল ট্রাম্পের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডn- এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে উত্তর আটলান্টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, কারণ সেখানে রুশ ও চিনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পের এই ‘কল্পনা’ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তবুও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ন্যাটোর ভেতরেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
কলম্বিয়াn- দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার অভিযানের পরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বলেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পেত্রো একজন ‘অসুস্থ মানুষ’ যিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে সহায়তা করছেন। কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের মিত্র এই দুদেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক বৈরিতার সৃষ্টি করেছে।
ইরানn- মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে ইরান। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
মেক্সিকোn- আবার প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ট্রাম্প আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্ষমতায় ফিরেই তিনি ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জাগিয়ে রেখেছেন।
কিউবাn- সবশেষে ট্রাম্পের নজর রয়েছে কিউবার ওপর। ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে পতনের মুখে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এমনিতেই ভেঙে পড়বে, তাই সেখানে এখনই সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কথাকে যেন তারা কোনওভাবেই হালকাভাবে না নেয়। ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো এখন ট্রাম্পের এই ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *