অমর্ত্য সেনকে নোটিস! মানুষ জবাব দেবে ভোটবাক্সে: অভিষেক
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো রামপুরহাট:
রামপুরহাটের সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানালেন, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। এবারে বীরভূমে ১০ নয়, ১১-শূন্য করতে হবে।’
মঞ্চে ওঠার পর নিজের দেরি নিয়েও ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। বললেন, ‘সকাল সাড়ে আটটা-ন’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত আপনারা আমার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তারও দু’ঘণ্টা আগে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। দেরির জন্য দুঃখিত। যে কপ্টারে করে আসার কথা ছিল, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু এসআইআরের তত্বাবধানে দামামা বেজেই গিয়েছে। তাই চক্রান্ত করে সভা বানচাল করার চেষ্টা হয়েছিল।’
এরপরই আক্রমণের সুরে অভিষেকের মন্তব্য, ‘বিজেপির জমিদারদের যত জেদ, তার দশগুণ জেদ আমার। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে পাশের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার ভাড়া করে এলাম। দু’ঘণ্টা দেরি হলেও মানুষের কাছে এসে পৌঁছেছি।’
এরপরই এসআইআর ইস্যুতে কমিশন-বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেক বলেন, ‘অমর্ত্য সেন, যিনি এ দেশের নাম বিশ্বের দরবারে চিনিয়েছেন, তাঁকেও এসআইআর এর নোটিস পাঠিয়েছে! অভিনেতা দেবকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। মহম্মদ শামি, যে বিশ্বকাপে দেশকে গর্বিত করেছে, তাকেও নোটিস দিয়ে আনম্যাপড করার চেষ্টা চলছে।’
এরপরেই হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেকের আহ´ান, ‘যাঁদের আনম্যাপড করতে চাইছে, গণতন্ত্রের নামে এই খেলায় সায় দেবেন না। এবারের ভোটে এদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করুন।’
অভিষেকের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ভোটার তালিকা থেকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কটাক্ষ, ‘এরা ভেবেছে ভয় দেখিয়ে, নোটিস দিয়ে মানুষকে সরিয়ে দেবে। কিন্তু বাংলার মানুষ সব দেখছে।’
টেনে এনেছেন পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি বিবির প্রসঙ্গও, যাঁকে বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে। অভিষেক বলেন, ‘এই মাটির একজন মেয়ে সোনালি খাতুন। জোর জবরদস্তি তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে লড়াই করে তৃণমূলের সৈনিকরা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। গতকাল ও একটা ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। আমি রামপুরহাটে দেখতে যাব।’
মঙ্গলবার দুপুরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে কপ্টারে রওনা হওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। অভিযোগ, প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে উড়ানের অনুমতি আটকে দেয় ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। ফলে ফ্লাইং ক্লাবেই প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় আটকে থাকেন তিনি।
তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, ঘটনা নিছক প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং বিজেপির ‘পরিকল্পিত বাধা’। নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরকে মাঠে নামতে না-দেওয়ার ‘কৌশল’ বলেই দাবি তাঁদের। বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
রামপুরহাটের সভামঞ্চ থেকে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘চক্রান্ত যত বাড়বে, মানুষের লড়াই তত দৃঢ় হবে। বাংলার মানুষ জবাব দেবে ভোটবাক্সে। গতবারের চেয়ে এবারে তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবং ভোট শতাংশ দুটোই বাড়বে।’
মানুষকে আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, ৩১ তারিখ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম। আমাদের নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন ছিল, ওরা সদুত্তর দিতে পারেনি। যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁরা ফর্ম ৬ পূরণ করে জমা দিন। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তৃণমূল আপনাদের সঙ্গে আছে। কমিশনের চক্রান্ত আমরা রুখবই।
এসআইআর আবহেও মাঠে-ময়দানে বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করে অভিষেক বলেন, মাঠে ময়দানে বিজেপি কোথায়? কারও কোনও অসুবিধা হলে বিজেপি কর্মীদের পাশে পান? ওদেরকে তো অনুবীক্ষণ যন্ত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ, আগে যাঁরা সিপিএম করতো, তাঁরাই এখন বিজেপি করে। শুধু জার্সিটা বদলেছে। কোনও ভদ্রলোককে বিজেপিতে পাবেন না। একই সঙ্গে কর্মীদের সতর্ক করেছেন, তা বলে ভোটের ময়দানে এক ছটাক জমিও ছাড়বেন না। যে বুথে গতবারে ৫০ লিড ছিল, সেখানে ৫১ করতে হবে।
এদিন অভিষেকের সভায় ছিলেন তৃণমূলের বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘কেষ্টদা গতকাল মায়ের (তারপীঠ) কাছে বলে এসেছে ২৩০টা আসন দিতে হবে। আমি তো আরও ২০টা বাড়িয়ে বলব মা, এবারে ২৫০টা আসন দিতে। যে দল গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে একজন চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করে তাদের ভোটবাস্কে যোগ্য জবাব দিতেই হবে।’

