আমতায় বাড়িতে ঘুমের মধ্যেই আগুন ঝলসে মৃত্যু গোটা পরিবারের

কল্যাণ অধিকারী রাজন্যা নিউজ

হাওড়ার আমতায় রাতে মাটির বাড়িতে আগুনে পুড়ে মৃত্যু একই পরিবারের ৪ জনের। মৃতদের মধ্যে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীও আছে। রবিবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুর থানার সাওড়িয়া গ্রামে। কী ভাবে ঘরে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চার জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতদের নাম দুর্যধন দলুই (৭৫) দুধকুমার দলুই (৪৫) রত্না দলুই (৩৭) সম্পা দলুই (১৪)

আমতা-২ ব্লকের ঝামটিয়া অঞ্চলের
সাওড়িয়া গ্রাম। গ্রামের শেষ প্রান্তে বাড়ি হওয়ায় ও আশপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জমি হওয়ায় খুব একটা বাড়িঘর নেই। এখানেই মাটির ঘরে বাস করতেন দলুই পরিবারের পাঁচ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে একজন কর্মসূত্রে বাইরে ছিলেন। অন্যান্য দিনের মতো পাশের একটি গোয়ালঘরে গরু ও ছাগল বেঁধে রাখেন। বাইক রেখেছিলেন কিছুটা দূরে। তারপর মাটির বাড়িতে রাতের খাওয়াদাওয়া সারেন। এবং ঘুমাতে যান। পাশের পাড়ায় একটি পুজো উপলক্ষে অনুষ্ঠান হচ্ছিল। এরপর গভীররাতে হঠাৎই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে বাড়ির সদস্যরা বাইরে বের হতে পারেননি। আশপাশের গাছের ডালপালা ঝলসে পুড়ে গিয়েছে। স্থানীয়রাই খবর দেয় জয়পুর থানায়। এরপর দমকলের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভিতর থেকে একে একে দেহ উদ্ধার হয়। দেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছে শনাক্ত করা যায়নি।

বিমলা দাস নামে পরিবারের এক আত্মীয় বলেন, ‘খবর পেয়ে সকালেই ছুটে আসি। এসে দেখি সব শেষ। দুধকুমারের মেয়ে সম্পা নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। সেও আগুনের গ্রাসে ঝলসে মারা গেছে। এতবড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল। সব শেষ হয়ে গেল। পরিবারের একজন বাইরে কাজে গিয়েছে বলে রক্ষা পেয়েছে।’ রত্নার ভাই বিশ্বরূপ রায় বলেন, ‘বলপাইয়ে বাড়ি আমাদের। খবর পাই দিদি, জামাইবাবু, ভাগ্মী সবাই মারা গিয়েছে। তারপরেই চলে আসি। এসে দেখি সব পুড়ে খাক হয়ে গেছে। দিদির শ্বশুর তিনিও পুড়ে মারা গেছেন। এমন অঘটন ঘটলো আমাদের সব চলে গেল।’

এই ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন। তাঁদের দাবি, কেন ওই পরিবার এখনো মাটির বাড়িতে বাস করতেন। পাকা বাড়ি না হওয়ার কারণেই পুড়ে গেল বলে ক্ষোভ দেখান অনেকে। বেলায় ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। ঘটনাস্থলে আসেন সিপিএম ও বিজেপির স্থানীয় কার্যকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলের প্রাথমিক অনুমান, মাটির বাড়ি হওয়ার কারণেই ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট হতে পারে। এবং তা থেকেই বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। কীভাবে আগুন লাগল তদন্ত করছে পুলিশ ও দমকল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *