বাংলায় ওয়েইসির ভূমিকায় হুমায়ুনকে চাইছে বিজেপি!

কল্যাণ অধিকারী, দিন দর্পণ

নীলবাড়ির লড়াইয়ে ওয়েইসির ভূমিকায় ‘হুমায়ুন’কে চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব! যার দ্বারা ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার’ রাজনীতি করা যাবে। মূলত মমতাকে কটাক্ষ, তৃণমূলকে ব্যবহার করেই বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন হুমায়ুন। এরপর থেকেই দিল্লির নজরেও তিনি। অমিত শাহদের কাছেও হুমায়ুনের কদর বাড়ছে। বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে একজন আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ভূমিকা পালন করুক, চাইছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে তুরুপের তাস হতে চলেছেন হুমায়ুন। কেন ওয়েইসির বদলে হুমায়ুন?

ওয়েইসি একজন সুবক্তা ও সৎজন ব্যক্তিত্ব। হিন্দি ও উর্দুতে তাঁর বক্তব্য মানুষের গ্রহণযোগ্য। কিন্তু তিনি বাংলা ভাষা জানেন না। তাই বাংলার মানুষের কাছে বিশেষ করে মুসলমান সমাজে দরকার। যিনি মানুষের কাছে প্রমাণ করাতে পারবে, মমতা মুসলমানদের জন্য কিছুই করেনি! এই কথাটা মানুষ বিশ্বাস করবে। এই মুহুর্তে মুর্শিদাবাদে মানুষের কাছের হয়ে উঠেছেন হুমায়ুন। আশপাশের জেলাতেও তার কদর বাড়ছে। হুমায়ুনকে দিয়েই মমতার দলের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামাতে চাইছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৮০ টি আসনে মুসলমান ভোটারের প্রভাব বেশি। এইসব আসনে একচ্ছত্র ভোট পায় তৃণমূল। ওইসমস্ত আসনগুলোতে ভোট ভাগাভাগি হোক চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ।

সূত্রের কথায়, বাংলায় এমন একজনকে দরকার ছিল যে ওয়েইসির ভূমিকা অবতীর্ণ হোক। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, হুমায়ুনের সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ভাইরাল হলেও তাঁকে চটাতে চাইছে না বঙ্গ বিজেপি। বলা চলে রাজনৈতিক জল মাপার কাজ করছে। অনেকে এমনও বলছে, হুমায়ুন হঠাত করে লাইমলাইটে এসে নিজেকে ‘মুসলমান’ মুখ ভাবতে শুরু করেছেন। তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। তারপরেও তিনি দমে যাননি। তিনি যে নতুন দল করবেন তার ঘোষণাও করে দিয়েছেন সাসপেন্ডেন্ট ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। এখানেই শেষ নয় তিনি বাংলার ভোটে ১৩৫ আসনে লড়বেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে অন ক্যামেরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলছেন, ২২ তারিখ দল ঘোষণার দিন লক্ষ মানুষের জমায়েত করবেন বলেও দাবি করছেন। যা পরোক্ষে তৃণমূলকে চাপে রাখার চেষ্টা।

বঙ্গে ২৯৪ আসনে তৃণমূলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে টক্কর দেবে এমনটা ভাবছে না বিজেপি! অন্যদিকে, বাংলায় সদ্য ঢোকা ওয়েসির পার্টি মিমের সঙ্গে জোট করে লড়াই করবেন বলে আগেই জানিয়েছেন হুমায়ুন। সেদিক দিয়ে হুমায়ুন যদি ১৩৫ টি আসনে প্রার্থী দেয় তাহলে ওইসমস্ত আসনে তৃণমূলের সঙ্গে ভোট কাটাকাটির ফায়দা নিতে পারবে বিজেপি। তবে সব জল্পনাকল্পনার মধ্যেই, বাংলার মানুষের কাছে আস্থার জায়গায় এখনও তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই রাজ্যের মানুষ ভোট দেন। তিনি নিজেও বলেন ২৯৪ আসনে প্রার্থী আমিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি হোক বা হুমায়ুনের সঙ্গে লড়তে তৃণমূলের ইউএসপি আজও মমতা। তাই নীলবাড়ির লড়াইয়ে বাংলায় ওয়েইসির ভূমিকায় হুমায়ুন কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না মত তৃণমূলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *