বিহারে বাম্পার ভোটিং ভোট পড়ল ৬৭.১৪ শতাংশ

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো:

প্রথম দফার পর মঙ্গলবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফাতেও বিহারে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হল বিধানসভা নির্বাচন। এদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৬৭.১৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম দফার থেকেও এদিন বেশি ভোট পড়েছে। এই হার আরও বাড়বে। কারণ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পরেও বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লাইন দেখা গিয়েছে। সেই সূত্রে দ্বিতীয় দফায় ভোটের হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। যা সৃষ্টি করবে নয়া রেকর্ডের। অতীতে বিহারে এত বেশি ভোট পড়েনি। আর বিহারে গণনা হবে ১৪ নভেম্বর।
এদিন সকাল থেকেই বিহারের প্রত্যেকটি বুথে লম্বা লাইন চোখে পড়ে। ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে ভোটাররা ভোটদান কেন্দ্রে হাজির হন। লাইনে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ন’টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৪.৫৫ শতাংশ। যা প্রথম দফার থেকে বেশি ছিল। এদিন সকালে বিহারবাসীর উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘আমি সকল ভোটারকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে ভোটদানের নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যাঁরা প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন তাঁদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যাতে নিজেরা ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও ভোটদানে অনুপ্রাণিত করেন।’ অন্যদিকে কংগ্রেস নেত্রী তথা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গণতন্ত্র রক্ষার ডাক দেন। তিনি লেখেন, ‘শিল্পের জন্য, গণতন্ত্র ও সাংবিধানের রক্ষার জন্য এবং বিহারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ভোটদান করুন। এমন একটি সরকার গঠন করুন যা আপনাদের জন্য কাজ করবে।’
এদিন ভোটের দিন সকালে বিজেপি ও কংগ্রেস সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আরারিয়ায়। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল বহু বিজেপি সমর্থককে নিয়ে আসা হয় কংগ্রেস ভোটারদের মারধর করার জন্য। সেখান থেকেই গোলমালের সূত্রপাত। অন্যদিকে আরওয়ালে ভোটগ্রহণ চলাকালীন প্রিসাইডিং অফিসার অরবিন্দ কুমারের মৃত্যু হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।
এদিন ৮৪৯১টি ভোটকেন্দ্রকে বিহার পুলিশ স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে। সেখানে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। বিহার-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকাতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। সতর্ক ছিল ঝাড়খণ্ড প্রশাসনও। বিহার সীমানা লাগোয়া দশটি জেলায় ঝাড়খণ্ড পুলিশ ৪৩ টি চেকপোস্ট বসায়।
এই আবহের মধ্যে মঙ্গলবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় ভোটগ্রহণ হল উত্তর এবং পূর্ব বিহারের ২০টি জেলায়। এগুলি হল পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, শিওহর, সীতামাঢ়ী, মধুবনী, সুপৌল, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, পূর্ণিয়া, কাটিহার, ভাগলপুর, বাঁকা, জামুই, নওয়াদা, গয়া, জেহানাবাদ, আরওয়াল, ঔরঙ্গাবাদ, রোহতাস এবং কৈমুরে। সীমাঞ্চল, মগধ, কোশী এবং তিরহূত-মিথিলাঞ্চলের এই ভোটে ১৩৬-জন মহিলা-সহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩০২। ৪৫৩৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ভোটদাতা। এঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ পুরুষ। ১ কোটি ৭৪ লক্ষ মহিলা। ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে এই আসনগুলির মধ্যে এনডিএ ৬৬ এবং বিরোধী জোট মহাগঠবন্ধন ৪৯টিতে জিতেছিল। সাতটি আসনে জিতেছিলেন নির্দল এবং অন্য দলগুলির প্রার্থীরা। এর মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সীমাঞ্চলে ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) পাঁচটি আসন দখল করেছিল। সামগ্রিক হিসাবে ‘মিম’ প্রার্থীরা প্রায় পৌনে ২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন স্পিকার উদয়নারায়ণ চৌধরি (আরজেডি), প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহের কন্যা তথা এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী শ্যুটার শ্রেয়সী সিংহ (বিজেপি), প্রয়াত বলিউড তারকা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের তুতো ভাই নীরজ কুমার সিংহ (বিজেপি), প্রভাবশালী বিজেপি মন্ত্রী প্রেম কুমার, ‘বাহুবলী’ বুটন সিংহের স্ত্রী তথা নীতীশ কুমার মন্ত্রিসভার সদস্যা লেসি সিংহ (জেডিইউ), সমাজমাধ্যম প্রভাবী তিরুপতিকুমার তিওয়ারি ওরফে মণীশ কাশ্যপ (জন সুরজ পার্টি), এ বারের ভোটের ধনীতম প্রার্থী (প্রায় ৩৭০ কোটি টাকার মালিক) রণকৌশল প্রতাপ সিংহ (বিকাশশীল ইনসান পার্টি), প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রের পুত্র তথা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী নীতীশ মিশ্র (বিজেপি), কৃষক আন্দোলনের নেতা রামনারায়ণ যাদব (সিপিআই), প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজেশ কুমার এবং বিহার বিধানসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা জেএনইউ ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি শাকিল আহমেদ খান (কড়ওয়া)।
এদিকে শেষ দফার ভোটের আগে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব নতুন করে কারচুপির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এই আবহের মধ্যে সবার নজর থাকবে ১৪ নভেম্বর ফল প্রকাশের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *