বিহার নির্বাচনে ২৭ ভোটেও জয় পেয়েছেন প্রার্থী

কল্যাণ অধিকারী

২৫-এর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে এনডিএ প্রার্থীরা। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে কমিশনের তথ্য ঘাটাঘাটি। তেমন কোনও জনপ্রিয় মুখ ছাড়াই কী করে এত বড় জয় বিহারে? কোন কৌশলে নীতীশরাজ। তথ্য বলছে বেশকিছু আসনে নামমাত্র ভোটে জয় মিলেছে। সন্দেশ-এ জেডিইউ প্রার্থী মাত্র ২৭ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে। যা সবচেয়ে কম মার্জিনে জেতা বলছে কমিশনের তথ্য। নবিনগর আসনে জেডিইউ প্রার্থী চেতন আনন্দ ১১২ ভোটে জয় পেয়েছেন। এছাড়া আগিয়াঁও আসনে বিজেপির মহেশ পাসওয়ান, সিপিআই(এমএল)(এল)-এর শিব প্রকাশ রঞ্জনকে মাত্র ৯৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। বলরামপুর আসনে এলজেপিআরভি প্রার্থী সঙ্গীতা দেবী ৩৮৯ ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন। কংগ্রেসের প্রার্থী মনোজ বিশ্বাস ফরবেশগঞ্জ আসনে ২২১ ভোটে জিতেছেন। ঢাকা আসনে আরজেডির ফয়সাল রহমান বিজেপির পবন কুমার জয়সওয়ালকে মাত্র ১৭৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এরপর থেকেই অনেকে বলতে শুরু করেছেন, কিছু প্রার্থীর জন্য প্রতিযোগিতা রোমাঞ্চকর সমাপ্তিতে শেষ হয়েছে।

বিহার জয়ের পরেই শুক্রবার সন্ধেয় প্রধানমন্ত্রী পৌঁছে যান দিল্লির বিজেপি দফতরে। উল্লসিত প্রধানমন্ত্রী আগামীর লক্ষ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিহারের আমজনতা, বিকশিত বিহারের জন্য ভোট দিয়েছেন। বিহারের বাসিন্দারা সমৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে ভোটদান করেছেন। আমি ভোটের প্রচারের সময় বিহারের বাসিন্দাদের থেকে রেকর্ড ভোটদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আর বিহারের মানুষ যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আমি বিহারবাসীকে এনডিএ-কে বড় জয় এনে দিতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। বিহারের মানুষ আমার অনুরোধ রেখেছে। বিহারে ২০১০ সালের পর সবথেকে বড় জনাদেশ, এনডিএ-কে দিয়েছে। আমি বিহারবাসীকে তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।’ স্ট্যাটেজি-প্ল্যানিং মেনেই বিহার জয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেই বিহার জয়ের আসল রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পরেই নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য যা মিলেছে অনেকের কাছে চাঞ্চল্যকর। বিহার ভোটে বিজেপি পেয়েছে ২০.০৮ শতাংশ ভোট। জেডিইউ ১৯.২৫ শতাংশ। এলজেপিআর ৪.৯৭ শতাংশ। সেখানে আরজেডি পেয়েছে ২৩ শতাংশ। কংগ্রেস ৮.৭১ শতাংশ, বিএসপি ১.৬২ শতাংশ। এআইএমআইএম ১.৮৫ শতাংশ। বিজেপি পেয়েছে ৮৯ টা সিট, জেডিইউ ৮৫ টা এবং আরজেডি ২৫ ও এলজেপিআরভি ১৯টা সিট, কংগ্রেস ৬টা আসন পেয়েছে। এছাড়া এআইএমআইএম ৫, হামস ৫ এবং অন্যান্য ৯টা আসন পেয়েছে। পাটলিপুত্র জয় হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই কার্যত অন্ধকারে ডুবেছে লন্ঠন। রাষ্ট্রীয় জনতা দল-কে মজার ছলে কটাক্ষ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। ‘ফোনে ফ্ল্যাশলাইট থাকতে আর লণ্ঠনের কী দরকার!’ এতকিছুর পরেও শান্ত থেকেছেন আরজেডি নেতারা। বিহারে ভরাডুবির পর আরজেডি-র প্রথম প্রতিক্রিয়া মিলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ আরজেডি লিখেছে, “জনসেবা এক নিরন্তর প্রক্রিয়া, এক অন্তহীন যাত্রা। এখানে উত্থান-পতন স্বাভাবিক। পরাজয়ে দুঃখ নয়, জয়ে অহঙ্কার নয়। আরজেডি গরিবের দল, গরিব মানুষের জন্যই কথা বলবে।” ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা নীরব থাকার পর মুখ খুলল আরজেডি এবং মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *