অগ্নিগর্ভ নেপাল, উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল উত্তরবঙ্গে
কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ
অশান্ত পড়শি দেশে আটকে রয়েছেন বহু বাঙালি পর্যটকেরা। এ খবর মমতার কানে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার মাঝরাত পর্যন্ত উত্তরকন্যাতেই কাটান মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার জলপাইগুড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেই শুনেছি নেপালে প্রবলেম, ছুটে এসেছি। আশি করছি, শান্তি ফিরে আসবে। মনিটরিং করছি। ‘দু’এক দিনের মধ্যে সকলকেই উদ্যোগ নিয়ে ফিরিয়ে আনবে রাজ্য। দিদির অভয়বার্তা পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে রাজ্যের মানুষের।
মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের মধ্যেই বুধবার দার্জিলিংয়ের পানিট্যাঙ্কিতে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। নেপাল নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল পানিট্যাঙ্কিতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। সম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে দিল্লিতে পাঠাবেন বলে জানা গেছে। জেন জি-র আন্দোলনে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তারপরেও অশান্ত নেপাল৷ তারই আঁচে বদলে গিয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্তের ছবিটা। পানিট্যাঙ্কিতে আটকে রয়েছে কয়েকশো ট্রাক। ভারত থেকে নেপালে ট্রাক যাওয়ার ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করার কারণে কবে সীমান্ত খুলবে কিছুই বুঝতে পারছেন না ট্রাক চালকরা। এতে করে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে ব্যবসায়ী মহল। ইতিমধ্যে নেপালে আটকে পড়া ট্রাকমালিকদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করিকে চিঠি দিয়ে আবেদন জানাচ্ছে ট্রাক মালিকদের সংগঠন।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফিরবার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কলকাতায় ফিরছেন না। উত্তরকন্যায় সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নেপাল পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগের কারণ, ভারতের সঙ্গে নেপালের মুক্ত সীমান্ত। সেখানে কোনও কাঁটাতার নেই। এখন নেপালের উত্তাল পরিস্থিতিতে, সেদেশ থেকে জঙ্গিরা ভারতে ঢুকে পড়লে তা যথেষ্ট উদ্বেগের হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

