বিএলএ’দের কাজে অসন্তুষ্ট! সোমে ফের মেগা বৈঠকে অভিষেক

রাজন্যা নিউজ, কলকাতা: এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে আগামী সোমবার ভার্চুয়াল মেগা বৈঠকের ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের অন্দরের খবর, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে সাংসদ, বিধায়ক এবং সর্ব স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আর এই বৈঠকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় দলের নেতারা দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কাজের মূল্যায়ণ করা হবে সাংসদ ও বিধায়কদের। একইসঙ্গে এই বৈঠকেই আলোচনা করা হবে কোন জেলায় সংগঠন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন তা নিয়েও। আরও একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা ও উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বর্তমানে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। তৃণমূলের অভিযোগ, এর নেপথ্যে বিজেপি তথা কেন্দ্রের রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। আশঙ্কা, পরিকল্পনামাফিক বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন, একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলেও দিল্লিতে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে এটি জনসাধারণের কাছে দলের সংগ্রামী ভাবমূর্তি তুলে ধরার কৌশল। রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায়, এটি একটি মোবিলাইজেশন স্ট্র্যাটেজি, যার মাধ্যমে দল জনমতকে সক্রিয় করে। এক্ষেত্রে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী সোমবারের মেগা বৈঠককে কেবল সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে দেখা যায় না। এটি আসলে একটি রাজনৈতিক কৌশলগত পদক্ষেপ, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলীয় অবস্থানকে সুসংহত করার প্রচেষ্টা। খুব সহজভাবে বললে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি একটি প্রি-ইলেকশনাল স্ট্র্যাটেজিক ইন্টারভেনশন।
এই বৈঠক সম্পর্কে একটা কথা বলতেই হয়, এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে উদ্বেগ স্পষ্ট। দলের তরফ থেকে এও দাবি করা হচ্ছে, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে চাইছে। আর এই আশঙ্কা থেকেই জেলায় জেলায় ক্যাম্প খোলা এবং বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বঙ্গের শাসকদলের তরফ থেকে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে এটা বলাই যায় বৈঠকটি মূলত ভোটার তালিকা রক্ষার কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
এর পাশাপাশি বৈঠকে সাংসদ ও বিধায়কদের পারফরম্যান্স রিভিউ হওয়ার অর্থ এতে নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং স্থানীয় স্তরে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার চাপ তৈরি হবে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, এদিনের এই বৈঠকে সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক পদাধিকারী মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজারের বেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। ১০ হাজারের বেশি নেতা এদিনেঅংশ নেবেন, এটি দলের ঐক্য প্রদর্শনেরও একটি সুযোগ।
এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা না বললেই নয়, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গ এই সম্প্রদায়ের ভোটকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। আর উত্তরবঙ্গ ঐতিহাসিকভাবে তৃণমূলের দুর্বল জায়গা। সেই কারণে এবার উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। এর পাশাপাশি বৈঠকে আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণের মাধ্যমে তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার চেষ্টা করবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক ব্যাপারীরা।
এখানেই শেষ নয়, এই বৈঠক আসলে নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জনসংযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এক্ষেত্রে ভোটার তালিকা ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চাইছে। একই সঙ্গে সংগঠনের ভেতরে দায়বদ্ধতা ও নেতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে তৃণমূলের এই মেগা বৈঠককে কেবল সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়। বরং এটি গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তি রক্ষা, দলীয় দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ, আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণ সামলানো এবং জনমত গঠনের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বৈঠক দলের জন্য এক কৌশলগত পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *