আইপ্যাক-তল্লাশি ইডির, প্রতিবাদী মমতার পাশে সমাজবাদী-আপ, কটাক্ষ সেলিম-অধীর-হুমায়ুনের

কল্যাণ অধিকারী ও ব্যুরো রিপোর্ট রাজন্যা নিউজ

পৌষের লক্ষ্মী বারে রাজ্য রাজনীতিকে গরম করে দিয়েছে ইডি-র অভিযান। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-তল্লাশিতে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ দেখছে রাজ্যের শাসকদল। বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রকে আক্রমণ শানিয়ে ফের সংঘাতে তৃণমূল! শুক্রবার থেকেই রাস্তায় নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শেষ হবে হাজরা মোড়। এই পরিস্থিতিতে মমতার পাশে সমাজবাদী, আপ-এর মতো রাজনৈতিক দল। তবে বিরুদ্ধে রাজ্যের বাম-কংগ্রেস ও হুমায়ূন কবীর।

ভোট আসলেই জেগে ওঠে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এমনটা বারেবারে বলে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী। আর মাত্র কয়েকমাস বাদেই রাজ্যে নীল বাড়ির লড়াই। এমন একটি সময়ে রাজ্যে ঘুরছেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে কয়লা কান্ডের একটি পুরনো মামলায় তল্লাশি চালায় ইডি। পশ্চিমবঙ্গের ছয় জায়গায় ও দিল্লির চার জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি হানা দেয়। খবর পেয়ে অভিযানের মাঝেই হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী! তারপর থেকে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করে। দেশজুড়ে তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।

মোদি-অমিত শাহকে নিশানা করে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে আম আদমি পার্টি। সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এটা ভেনেজুয়েলা নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ। ইডি হানা নিয়ে সরব অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে এবার ইডির নজরে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা। আইপ্যাক-এর অফিসে ইডির তল্লাশি বিজেপির আরও একটা ভয়ভীতির কৌশল।’ আইপ্যাক-এর বাড়ি-অফিসে তল্লাশি নিয়ে পোস্ট করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সেখানে তিনি লেখেন ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শোচনীয় পরাজয় হতে চলেছে, এটাই প্রথম প্রমাণ’।

অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এক্ষেত্রে ইডির কোন দোষ দেখছেন না। তিনি সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি বেসরকারি সংস্থায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি হলে তাতে তৃণমূল কেন পথে নামছে? প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরীর সাফ বক্তব্য ইডির অভিযানের মাঝখানে মুখ্যমন্ত্রী কেন ওই ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এলেন? ফাইলে কী ছিল? তাঁর কটাক্ষ, “আইপ্যাক চাইলে আইনি সহায়তা নিতে পারত। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ইন্টারেস্ট’ কী? রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হয়ে থাকলে আইনি পথে লড়াই না করে তিনি কেন নিজে এগিয়ে এসে ‘বেআইনি কাজ’ করবেন?” হুমায়ূনের দাবি, তদন্তে বাধাদান করা উচিত হয়নি! সবমিলিয়ে আইপ্যাকে ইডির অভিযান ঘিরে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *