মাথাভাঙ্গায় চিতার হানায় জখম পাঁচ ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো
হঠাৎ চিতাবাঘের হানায় আক্রান্ত ৫ জন। ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে মাথাভাঙ্গা ১ নম্বর ব্লকের বৈরাগিরহাটে। জানা গেছে, মাথাভাঙ্গা ১ নম্বর ব্লকের বৈরাগিরহাটে গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতগাছি এলাকায় শনিবার সকালে ধান কাটার সময় যুবতী প্রতিমা ডাকুয়ার উপর হামলা চালায় পূর্ণবয়স্ক ওই চিতাবাঘ। তাঁর আর্তচিৎকার শুনে ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। কিন্তু তাঁদের উপস্থিতি চিতা বাঘটিকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। পরপর আরও চারজনকে আক্রমণ করে সে। আক্রান্তরা হলেন তপন বর্মন, জীবন বর্মন, হরকান্ত রায়, গিরিশ বর্মন এবং প্রতিমা ডাকুয়া। সকলকেই গুরুতর অবস্থায় মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ মাঠে কাজ চলছিল। ঝোপের আড়াল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে প্রতিমার মাথা ও হাতে হামলা করে চিতাবাঘটি। তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে অন্য চারজনও রক্তাক্ত হন। আচমকা প্রাণীর হানায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ ও বন দফতরের দল। এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে ঘর থেকে না বেরোতে অনুরোধ করা হয়। উদ্ধারের আগে প্রায় ঘণ্টাখানেক গ্রাম জুড়ে তাণ্ডব চালায় চিতাবাঘটি। পরে একটি বাড়ির পাশে ঢুকে পড়ায় বন দফতর জাল দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। উৎসুক জনতার প্রচণ্ড ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এসডিপিও সমরেন হালদার ও আইসি হেমন্ত শর্মা নিজে লাঠি হাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে নামেন। এরপর জলদাপাড়া, বক্সা ও কোচবিহার বন বিভাগের ট্রাঙ্কুলাইজার টিম পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে সন্ধ্যার আগেই ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে চিতাবাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বনাধিকারিক অসিতাভ চট্টোপাধ্যায়, সহ-বনাধিকারিক বিজন কুমার নাথ সহ একাধিক আধিকারিক। এবিষয়ে অসিতাভবাবু জানান, ‘সম্ভবত জলপাইগুড়ি ডিভিশন থেকে বেরিয়ে জামালদা ফরেস্ট হয়ে খাবারের সন্ধানে এই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়েছিল চিতাবাঘটিতে। এটি একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আহতদের সাহায্য এবং ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনার কিছুক্ষণ পরই আহতদের দেখতে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছান কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং এনবিএসটিসি চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায়। সঙ্গে ছিলেন জেলা তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্ব। চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়, আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
চিতাবাঘ উদ্ধার হলেও এখনও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের মনে। বন দফতর মাইকিং করে সতর্কতা জারি করেছে ও গ্রামবাসীদের অযথা বাইরে না বেরোতে অনুরোধ করছে। তবে বন দফতরের দাবি, এলাকা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ, এবং উদ্ধার হওয়া চিতাবাঘটিকে দ্রুত বনাঞ্চলে স্থানান্তর করা হবে। দিনভর উত্তেজনায় কেটেছে মাথাভাঙ্গা। তবে বন দফতর, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের দ্রুত পদক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো গেছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

