নিজের ফাঁসির নির্দেশ শোনা হাসিনা বলেন এই রায় ‘পক্ষপাতদুষ্ট’
কল্যাণ অধিকারী রাজন্যা নিউজ
ইউনুসদের দাবি মেনে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ফাঁসির সাজা দিয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ ট্রাইবুনাল। দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তারপর, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদেরা ন্যায়বিচার পেয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়বিচার পেয়েছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়া দেশান্তরী হাসিনা তাঁর ফাঁসির প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই রায় ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। এ হেন রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশজোড়া (বাংলাদেশে) বন্ধের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগও। প্রশ্ন উঠছে, হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য কেন এত তাড়াহুড়ো ইউনুসদের? তবে কি হাসিনাকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়ে, আওয়ামী লীগকে মুছে দিতে বদ্ধপরিকর ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার?
২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর হাসিনা সরকারের পতন হয়। ৫ অগস্ট দেশ ছাড়েন। পনেরো মাস হয়ে গেল ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে গেছেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। মানবতাবিরোধী অপরাধে সোমবার ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। রায়ে বলা হয়েছে, হিংসায় উস্কানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ এবং দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা—মূলত এই তিন অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ট্রাইবুনাল। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামীর নামে দেশে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল। অর্থাৎ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামানের সমস্ত সম্পত্তি এবার বাজেয়াপ্ত করবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
শেখ হাসিনার কি সাজা হয় গোটা বিশ্বের নজর ছিল বাংলাদেশের আদালতের রায়ের দিকে। সোমবার বেলা গড়াতেই বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইবুন্যালে হয়েছে রায় ঘোষণা। সর্বোচ্চ সাজা পেয়েছেন বাংলাদেশ থেকে পলাতক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই খবরের মাঝেই, নরেন্দ্র মোদী সরকারের তরফে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের দফতর একটি বিবৃতি জারি করে। ভারতের তরফে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে,’ভারত, বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ , যার মধ্যে রয়েছে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা। হাসিনার সঙ্গে ফাঁসির সাজা পেয়েছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। হাসিনার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী আসাদুজ্জামান একটি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, আমরা জানতাম এই রকম রায়ই হবে। গত এক বছরে বাংলাদেশে ঘটনাপ্রবাহ যে পথে এগিয়েছে, যে ভাবে সব কিছু সাজানো হচ্ছিল, তাতে আমরা বুঝে গিয়েছিলাম যে, এই রায়ই ঘোষিত হতে চলেছে। তাই চমকে যাইনি।’’
এদিন রায় ঘোষণার আগে একটি অডিওবার্তা দিয়েছেন হাসিনা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘আল্লা জীবন দিয়েছেন, আল্লাই নেবেন, পরোয়া করি না’! রায়ের আগে অডিয়োবার্তা দিয়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ওয়াকিবহাল। গত দেড় বছরে বাংলাদেশের তাঁর দলের বিরুদ্ধে একের পর এক রায় শুনিয়েছে ইউনুসের সরকার। নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাঁর দল আওয়ামী লীগের রাজ্যনৈতিক কার্যক্রম। হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে মামলা করা হয়েছে। এতকিছুর পরেও হাসিনার সাফ কথা, ‘আগামী দিনে বাংলাদেশে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে তাঁর দল,’। রবিবার রাথে সমর্থকদের উদ্দেশে হাসিনার বার্তা, ‘‘আমি বেঁচে আছি। বেঁচে থাকব। আবার মানুষের হিতার্থে কাজ করব। বাংলাদেশের মাটির প্রতি আমি সুবিচার করবই।’’ কিন্তু সোমবার বাংলাদেশের গতিপ্রকৃতি উল্টো ধারায় বইতে শুরু করেছে। মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসিনা। অভিযোগ করেন, এই রায় এসেছে ‘একটি অনির্বাচিত সরকারের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত রিগড ট্রাইব্যুনাল’ থেকে, যার মূল লক্ষ্য তাঁর দল আওয়ামী লিগকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দুর্বল করে দেওয়া। তাঁর দলের প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ‘মহম্মদ ইউনুসের বিশৃঙ্খল, সহিংস, সামাজিক ভাবে পিছিয়ে দেওয়া প্রশাসন কোটি কোটি বাংলাদেশিকে কোনওভাবেই বোকা বানাতে পারবে না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টা তারা বুঝে গেছে।’

