পরিবারের মান সম্মান ফিরিয়ে দিল হাইকোর্ট, দাবি শিক্ষকদের

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

২০২৩ সালের মে মাস। কলকাতা হাইকোর্টে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক নির্দেশে, প্রাথমিকে হাজার-হাজার চাকরি বাতিল হয়েছিল। রাজ্যজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিকের সেই ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রেখে দিল। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর জয় মেলায় এদিন হাইকোর্ট চত্বরে আনন্দাশ্রু, চলল মিষ্টিমুখ পর্ব।

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগে পুরোদমে চলছে এসআইআর-এর কাজ। হাতে হয়তো বড়জোর মাস চার তারপরেই ভোটের দামামা বেজে উঠবে। এমন একটি সময় প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরির মামলার কি রায় হয় তা নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই প্রহর গুণছিল শাসক ও বিরোধী দুই শিবির। দুপুর পৌনে তিনটা নাগাদ জানা যায় প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় খারিজ হয়ে গিয়েছ। ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল থাকছে। এদিনের রায় ঘোষণার পরে অনেক আইনজীবী জানিয়েছেন, গত ৯ বছর ধরে চাকরি করছেন। তাঁদের শিক্ষকতা নিয়েও কোনও অভিযোগ আসেনি। চাকরি চলে গেলে তাঁদের পরিবারের অস্তিত্বই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতো! এই রায় আগামীদিন পথ দেখাবে।

কিন্তু কেন সেদিন এত হাজার চাকরি বাতিল করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? চাকরি খেয়েছেন বলে অভিজিৎকে বারেবারে নিশানা করেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, উনি তৎকালীন বিচারপতি গঙ্গোপাধ‌্যায় বার বার বলেছেন, যে আইনের খুঁটিনাটির মধ্যে তিনি ঢুকবেন না। এ দেশের মহান বিচারপতিরা সবসময় আইনের খুঁটিনাটির উপর জোর দিয়ে এসেছেন এবং তাঁরা এটা ভালো বোঝেন। মধ্য-মেধার কোনও বিচারপতির পক্ষে আইনের খুঁটিনাটি বোঝা সম্ভব না। এবং এই ধরনের ব্যক্তিরা বিচারপতির চেয়ারের যোগ্যও নন।”

এই প্রাথমিক নিয়োগ মামলাতেই গ্রেফতার হয়েছিলেন বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। এদিন, সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। তারপর প্রতিক্রিয়া দিয়ে গিয়ে মানিক বললেন, ‘গাছেরও পাতা ঝরে, আবার নতুন কিশলয় আসে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ার জয়। সব দিক থেকে কলঙ্কমুক্ত হল। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াই স্বীকৃতি পেল।’

বিজেপি সাংসদ অভিজিৎকে নিশানা করেছেন কুনাল ঘোষ। ‘যে রাজনৈতিক অভিষন্ধি নিয়ে এই রায় ঘোষণা করেছিলেন, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। বিচারপতির পদে থেকে তাঁর মনে ছিল বিজেপিতে। তিনি হাইকোর্টের চেয়ারে বসে বিজেপি করছিলেন। তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন কিনা তা এখন আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। সকলের চাকরি বাতিল করতে হবে, এই মানসিকতা অত্যন্ত খারাপ শুধু নয়, যারপরনাই নিন্দনীয়।

যারা চাকরি ফিরে পেলেন, শিক্ষকদের অনেকেই হাইকোর্ট থেকে জানালেন, এটা আমাদের শুধু জয় নয়, আমাদের পরিবারের মান সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া। ২৩ সাল থেকে যে ঝড় বইছে তা আজ থামল। আমাদের চাকরিটা কেড়ে নেবার যে চক্রান্ত চলছিল তার যোগ্য জবাব দিল সেই হাইকোর্ট। এই হাইকোর্ট থেকেই আমাদের চাকরি কেড়ে নেওয়া। আবার সেখান থেকেই উতরে যাওয়া। এটা জীবনের সেরা জয়। পরিবারের কাছে স্বস্তির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *